অক্টোবরের ৯ তারিখ এয়ার ইন্ডিয়ার ভিয়েনা-দিল্লি ফ্লাইট AI-154 মাঝআকাশে একাধিক সিস্টেম বিকল হয়ে দুবাইয়ে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তার আগে, ৪ অক্টোবর বার্মিংহামে নামার সময় AI-117 ফ্লাইটে ‘র্যাম এয়ার টারবাইন’ বা RAT হঠাৎ সক্রিয় হয়ে পড়ে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 October 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার (Amedabad Plane Crash) পর থেকেই বোয়িং ৭৮৭ (Boeing 787) বিমানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি টানা দুটি ঘটনায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ ওঠায় সব বোয়িং ৭৮৭ বিমানকে অবিলম্বে 'গ্রাউন্ড' (Ground) করার দাবি জানিয়েছে ‘ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস’ (Pilots' Body)। সংস্থার বক্তব্য, একের পর এক ত্রুটি ইঙ্গিত দিচ্ছে বিমানের পরিষেবা ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর ঘাটতির দিকে।
পাইলট সংগঠনের অভিযোগ, অক্টোবরের ৯ তারিখ এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) ভিয়েনা-দিল্লি ফ্লাইট AI-154 মাঝআকাশে একাধিক সিস্টেম বিকল হয়ে দুবাইয়ে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তার আগে, ৪ অক্টোবর বার্মিংহামে নামার সময় AI-117 ফ্লাইটে ‘র্যাম এয়ার টারবাইন’ বা RAT হঠাৎ সক্রিয় হয়ে পড়ে। সংগঠনের দাবি, এই দুটি ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার দিকে, যা তারা সরকারি সংস্থা AIESEL থেকে নতুনভাবে নিয়োগ করা ইঞ্জিনিয়ারদের অক্ষমতার ফল বলে মনে করছে।
তবে এয়ার ইন্ডিয়া এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে। সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, AI-154 ফ্লাইটের ক্ষেত্রে একটি ‘টেকনিক্যাল ইস্যু’ দেখা দিয়েছিল, তবে তা বিদ্যুতের ত্রুটি নয়। বিমানটি দুবাইয়ে নিরাপদে নামে এবং যাত্রীদের একই বিমানে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।
AI-117 ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও সংস্থা জানিয়েছে, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে। RAT সক্রিয় হলেও বিদ্যুৎ ও হাইড্রোলিক সিস্টেমের সব পরিমাপ স্বাভাবিক ছিল। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, RAT-এর সক্রিয় হওয়া ছিল ‘আকস্মিক ও অনিয়ন্ত্রিত’, যা বিশ্বের অন্যান্য সংস্থার ক্ষেত্রেও ঘটেছে বলে বোয়িং আগেই জানিয়েছিল।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ঘটনাগুলির বিষয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-কে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় থাকবে।
এদিকে পাইলট সংগঠন বলছে, গত ১২ জুনের ভয়াবহ AI-171 দুর্ঘটনার কথা - যেখানে আমেদাবাদ থেকে উড়ান নেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হয়ে ২৬০ জনের প্রাণ যায়। তাদের দাবি, ৭৮৭ বিমানে একাধিক ত্রুটি বারবার ধরা পড়লেও সেগুলির মূল কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে না, যা যাত্রী নিরাপত্তাকে সরাসরি বিপন্ন করছে।