৭৩ বছরের হরজিত কৌরকে ৩৩ বছর পর আমেরিকা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরে তিনি অভিযোগ করলেন, তাঁকে গোমাংস খেতে বাধ্য করা হয়েছিল।

হরজিত কৌর
শেষ আপডেট: 27 September 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৩৩ বছর আমেরিকায় থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফেরত পাঠানো (Deportation from USA) হয়েছে ৭৩ বছর বয়সী পাঞ্জাবের মহিলা হরজিত কৌর-কে (Harjeet Kaur)। ভারতে ফেরার পর তিনি অভিযোগ করেছেন যে, গ্রেফতারের পর তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে, পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি এবং ওষুধও দেওয়া হয়নি।
পিটিআই সূত্রে খবর, মোহালিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় হরজিত কৌর জানান, তিনি নিরামিষাশী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে গরুর মাংস দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি খেতে পারেননি। তিনি বলেন, "ওরা যে খাবার দিয়েছিল, তা আমি খেতে পারিনি, কারণ আমি নিরামিষ খাই। ওরা গরুর মাংস দিয়েছিল, যা আমি খাই না।"
দীর্ঘ ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টার বিমানযাত্রায় খাবার ও ওষুধ প্রসঙ্গে কৌর বলেন, "ওরা শুধু কিছু চিপস আর দু'টো কুকিজ দিয়েছিল। কোনও ওষুধ বা অন্য কিছু দেওয়া হয়নি।"
তাঁর আইনজীবী দীপক আলুওয়ালিয়া জানিয়েছেন, বহিষ্কারের আগে পরিবারকে বিদায় জানানোর সুযোগও হরজিত কৌরকে দেওয়া হয়নি। আলুওয়ালিয়ার দাবি, হরজিত কৌরকে প্রথমে জর্জিয়ার একটি অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রায় ৬০-৭০ ঘণ্টা মেঝেতে একটি মাত্র কম্বল নিয়ে শুতে বাধ্য করা হয়েছিল। যেহেতু তাঁর ডাবল নি রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি করা ছিল, তাই তাঁর পক্ষে ওঠা কঠিন ছিল। এই পুরো সময়ে তাঁকে স্নান করতেও দেওয়া হয়নি। বিমান ছাড়ার আগে তাঁকে ও অন্য বন্দীদের শুধুমাত্র ভেজা ন্যাপকিন দিয়ে শরীর পরিষ্কার করার অনুমতি দেওয়া হয়।
বয়সের কারণে কৌরকে অবশ্য বিমানে হাতকড়া পরানো হয়নি, যদিও প্লেনে থাকা অন্য ১৩২ জন বহিষ্কৃতকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। ১৯৯২ সালে দুই ছেলেকে নিয়ে আমেরিকায় যান হরজিত কৌর। ২০১২ সালে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তার মেয়ে মনজি কৌর জানিয়েছেন, তারপর থেকে ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রতি ছয় মাস অন্তর সান ফ্রান্সিসকোতে নিয়মিত রিপোর্ট করতেন।
বর্তমানে মোহালিতে বোনের বাড়িতে থাকা হরজিত কৌর ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "যা করার, আমার ছেলেরাই করবে। আমি কিছুই করতে পারব না।" তিনি আমেরিকায় ফিরে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন। কারণ, তাঁর পুরো পরিবার সেখানেই থাকে।