মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল লোকসভায় বলেন, ভারতীয় পণ্যের উপর বর্ধিত শুল্ক নিয়ে সরকার বিবেচনা করে দেখছে।

পীযূষ গোয়েল। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 31 July 2025 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল লোকসভায় বলেন, ভারতীয় পণ্যের উপর বর্ধিত শুল্ক নিয়ে সরকার বিবেচনা করে দেখছে। ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি, যা আগামিকাল, শুক্রবার, ১ অগস্ট থেকে চালু হওয়ার কথা, বাণিজ্য ক্ষেত্রে তার প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করা চলছে। সংসদে মন্ত্রী বলেন, গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি প্রশাসনিক নির্দেশে বর্ধিত শুল্কের কথা ঘোষণা করেছিলেন। ৫ এপ্রিল থেকে ১০ শতাংশ ন্যূনতম শুল্ক চাপে। সব মিলিয়ে ভারতের জন্য ২৬ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা চাপানো হয়।
এরপর ১০ এপ্রিল প্রাথমিকভাবে শুল্কহারের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় প্রথমে ৯০ দিন ও তারপর বাড়িয়ে করা হয় ১ অগস্ট পর্যন্ত। ট্রাম্পের সদ্য ঘোষণা শুল্কহার নিয়ে সরকার বিবেচনা করে দেখছে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে এর প্রভাবকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। গোয়েল বলেন, ভারত গত ১০ বছরে একাদশতম স্থান থেকে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে উঠে এসেছে। এর কৃতিত্ব কৃষক ও এমএসএমই সংস্থাগুলির। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে রফা-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও ভারত আগে নিজের স্বার্থ বজায় রাখবে।
উল্লেখ্য, আমেরিকার শুল্কনীতিতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড়সড় ধাক্কা লেগে গেল। বুধবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতের উপরে একতরফা ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপাবে ওয়াশিংটন। ১ অগস্ট থেকে তা কার্যকর হবে। এই শুল্কের বোঝার সঙ্গে থাকছে এক অনির্দিষ্ট "পেনাল্টি"—রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার খেসারত দিতে হবে নয়াদিল্লিকে। ফলে শুধু রফতানি নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কেও অস্বস্তি বাড়ল ভারতের।
২০২৪ সালে ভারত আমেরিকায় ৮৭.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল, যা দেশের মোট রফতানির ১৭ শতাংশ ও জিডিপি-র ২.২ শতাংশ। এবার সেই বাজারে দামের ভারে কোণঠাসা হতে পারে ভারতীয় পণ্য—বিশেষত যেগুলি শ্রমনির্ভর—যেমন বস্ত্রশিল্প, ওষুধ, রত্ন ও অলঙ্কার, ইলেকট্রনিক্স ও গাড়ির যন্ত্রাংশ।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই শুল্ক দীর্ঘদিন কার্যকর থাকে, তবে ভারতের জিডিপি ০.২ থেকে ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমে যেতে পারে। ছোট ও মাঝারি রফতানিকারীরা সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খাবেন। ইতিমধ্যেই শেয়ার বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে—সেনসেক্স প্রায় ৬০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছে, নিফটি কমেছে ০.৭ শতাংশ।