
ভিকে সিং ও এম নাগেশ্বর রাও
শেষ আপডেট: 25 September 2024 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: থানার মধ্যেই নারী নির্যাতনের অভিযোগে অশান্ত ওড়িশা। যৌন নিগ্রহের শিকার ভারতীয় সেনার এক মেজরের বান্ধবী। ঘটনাচক্রে নির্যাতিতা প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ারের মেয়েও বটে। এবার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিতর্কে জড়ালেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা প্রধান ভিকে সিং ও প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাও।
সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান জানান, 'সেনা অফিসারের বান্ধবীর সঙ্গে ওড়িশা পুলিশের যে অকথ্য ব্যবহার সামনে এসেছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়ঙ্কর।' ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
জেনারেল সিং আরও জানিয়েছেন, 'অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মেয়ের কথা সকলকেই শুনতে হবে। ওড়িশার ভরতপুর থানায় তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।' ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকেও নিশানা করে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রাক্তন সিবিআই কর্তাও। নাগেশ্বর রাও সেনা প্রধানের পোস্টের সমালোচনা করে বলেন, 'একজন ওড়িশা ক্যাডার আইপিএস অফিসার পুরো বিষয়টিকে ভুল ব্যাখা করছেন। ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছেন।' নাগেশ্বরের পাল্টা অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় ওই সেনা কর্তা এবং তাঁর বান্ধবীই পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। পাশাপাশি ওড়িশা পুলিশের পাশেই দাঁড়িয়েছেন তিনি।
নাগেশ্বরের আরও জানিয়েছেন, 'মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন ওঁরা। পরে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে ভরতপুর থানায় এসে পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে চূড়ান্ত খারাপ ব্যবহার করেন। যে কারণেই ভারতীয় সেনার ওই মেজরকে লক আপে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।' অবসরপ্রাপ্ত সেনা প্রধান ভারতীয় সেনার কাছে মেজরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে। ওই তরুণী একটি রেস্তরাঁ চালান। রাত একটা নাগাদ রেস্তরাঁ বন্ধ করে ওই সেনা আধিকারিকের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের তাড়া করে। দুষ্কৃতীদের থেকে বাঁচতে বান্ধবীকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন মেজর। এরপরই মিথ্যা অভিযোগে সেনা আধিকারিককে লকআপে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তারপরই শুরু হয় অত্যাচার।
থানার মধ্যেই তাঁর প্যান্ট খুলে নেওয়ার পাশাপাশি বুকে একাধিকবার লাথি মারেন এক পুরুষ পুলিশ কর্মী। এমনকী তরুণীকে তিনি নিজের পুরুষাঙ্গ দেখান বলেও অভিযোগ। থানার আইসিও তরুণীর উদ্দেশ্যে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। বাদ যাননি মহিলা পুলিশকর্মীরাও। তাঁরাও ওই তরুণীর উপর অত্যাচার চালান। একসময় প্রাণে বাঁচতে এক পুলিশকর্মীকে কামড়ে দেন তিনি। এরপরই পুলিশকে মারধর ও থানা ভাঙচুরের অভিযোগে তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়।
সেনার তরফে বিষয়টি নিয়ে ওড়িশার বিজেপি সরকারকে চাপ দেওয়ার পরই ঘটনার কথা জানাজানি হয়। ঘটনায় এক ইনস্পেক্টর-সহ পাঁচ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বুধবার ওই তরুণীর জামিন মঞ্জুর করেছে ওড়িশা হাইকোর্ট।