নিয়ম অনুযায়ী, ক্রেতাকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুর মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অনুমোদন মিললে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের নিলামে বিক্রি হল দাউদের পরিবারের চারটি জমি
শেষ আপডেট: 19 March 2026 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চারবার ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে ক্রেতা মিলল আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম (Dawood Ibrahim)-এর মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরিতে থাকা পৈতৃক জমির। কেন্দ্রীয় সরকারের নিলামে বিক্রি হল তাঁর পরিবারের চারটি জমি, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা চলছিল (Dawood Ibrahim Property Auction)।
মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরি জেলার মুম্বাকে গ্রামের এই চারটি জমি ২০১৭ সাল থেকে বারবার নিলামে তোলা হলেও কোনও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে চলতি মাসের ৫ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকারের আয়োজিত নিলামে সবকটি জমি বিক্রি হয়েছে (Dawood Ibrahim Maharashtra Property sold)।
এই নিলাম করা হয়েছে স্মাগলার্স অ্যান্ড ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানিপুলেটরস অ্যাক্ট (SAFEMA)-এর অধীনে, যার মাধ্যমে বহুদিন ধরে আটকে থাকা সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়ায় গতি আসে।
দাউদের শিকড় ভারতে (Dawood Ibrahim India link)।
সবকটি জমিই রত্নাগিরির মুম্বাকে গ্রামেই রয়েছে, যা দাউদ ইব্রাহিমের পৈতৃক গ্রাম হিসেবেই পরিচিত। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই জমিগুলির মধ্যে কয়েকটি আগে তাঁর মা আমিনা বি-এর নামে নথিভুক্ত ছিল।
নিলামে কী জানা গেল
নিলামে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, মুম্বইয়ের এক ব্যক্তি একটি জমির জন্য সর্বোচ্চ দর হাঁকেন। ‘সার্ভে নম্বর ৪৪২ (পার্ট ১৩-বি)’ হিসেবে চিহ্নিত ওই জমিটি তিনি ১০ লক্ষ টাকারও বেশি দামে কিনেছেন, যেখানে এর সংরক্ষিত মূল্য ছিল ৯.৪১ লক্ষ টাকা। এই প্লটের জন্য দু’জন দর হেঁকেছিলেন, একজন মুম্বই থেকে এবং অন্যজন রত্নাগিরি থেকে।
অন্য তিনটি জমি - সার্ভে নম্বর ৫৩৩, ৪৫৩ এবং ৬১৭-এর ক্ষেত্রে একমাত্র দরদাতা সব শর্ত পূরণ করে সেগুলিও কিনে নেন। এই জমিগুলির সংরক্ষিত মূল্য ছিল যথাক্রমে ২.৩৩ লক্ষ, ৮.০৮ লক্ষ এবং মাত্র ১৫,৪৪০ টাকা।
সব মিলিয়ে চারটি জমিই শেষ পর্যন্ত মুম্বইয়ের ওই ক্রেতার হাতেই যায়।
নিয়ম অনুযায়ী, ক্রেতাকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুর মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অনুমোদন মিললে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।
এই জমিগুলি ১৯৯০-এর দশকে কাসকর পরিবারের সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল এবং পরে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে চলে যায়।
আগে কেন বিক্রি হয়নি
২০১৭, ২০২০, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে এই চারবার চেষ্টা করা হলেও কোনও ক্রেতা পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সংরক্ষিত মূল্য কমানো হলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। সূত্রের দাবি, দাউদ ইব্রাহিম ও তাঁর অপরাধচক্র ‘ডি-কম্পানি’র সঙ্গে নাম জড়িয়ে থাকার কারণেই অনেকেই এই জমি কিনতে আগ্রহ দেখাননি। এছাড়া জমিগুলির দূরবর্তী অবস্থান, শুধুমাত্র কৃষিকাজে ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এবং তাত্ক্ষণিক আর্থিক লাভের সম্ভাবনা কম থাকাও আগ্রহ কমার বড় কারণ।
অতীত বিতর্ক
এই ধরনের সম্পত্তি নিলাম নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। দিল্লির আইনজীবী অজয় শ্রীবাস্তবের নাম তাতে বারবার উঠে এসেছে।
২০০১ সালে অজয় মুম্বইয়ের নাগপাড়া এলাকায় দাউদের দুটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার দখল পাননি। বিষয়টি বর্তমানে বম্বে হাইকোর্টে বিচারাধীন।
২০২০ সালে তিনি মুম্বাকে গ্রামে দাউদের পৈতৃক বাড়ি কিনে সেখানে ট্রাস্ট গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। পরে ২০২৪ সালে মাত্র ১৫,৪৪০ টাকার সংরক্ষিত মূল্যের একটি জমির জন্য ২.০১ কোটি টাকা দর হাঁকেন। কিন্তু নির্ধারিত টাকা না দেওয়ায় সেই চুক্তি বাতিল হয়ে যায়।
কে এই দাউদ ইব্রাহিম?
ডি-কম্পানির প্রধান দাউদ ইব্রাহিম ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী হয়ে ওঠেন। ওই হামলায় ২৫৭ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হন।
ভারতের দাবি, তিনি পাকিস্তানের করাচিতে থাকেন, এই দাবি জাতিসঙ্ঘও সমর্থন করেছে। যদিও পাকিস্তান বরাবরই তা অস্বীকার করেছে।
তবে ২০২০ সালে পাকিস্তান সরকার একটি নথিতে অসাবধানতাবশত তাঁর করাচিতে থাকার উল্লেখ করে ফেলে। সেখানে বলা হয়েছিল, তিনি করাচির ক্লিফটন এলাকায় ‘হোয়াইট হাউস, নিয়ার সৌদি মসজিদ’-এ থাকেন। পাশাপাশি তাঁর আরও কয়েকটি ঠিকানার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। যদিও পরে ইসলামাবাদ সেই তথ্য থেকে সরে আসে।