Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার

আদালত আর প্রাক্তন স্বামীর টানাপড়েনেই খুন ৪ বছরের ছেলেকে! সূচনা-কাণ্ডে হাড়হিম মোটিভ প্রকাশ্যে

রিসর্টের কর্মীরা খেয়াল করেন, মহিলার সঙ্গে তাঁর ছেলে নেই। এরপর যখন তাঁর ঘরে যান তাঁরা, তখন সেখানে রক্তের ছাপ পাওয়া যায়। সন্দেহ হতেই তারা গোয়া পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশের তরফে ট্যাক্সি ড্রাইভারের মারফত যোগাযোগ করা হয় সূচনা শেঠের সঙ্গে। তখনও গাড়িতেই ছিলেন সূচনা।

আদালত আর প্রাক্তন স্বামীর টানাপড়েনেই খুন ৪ বছরের ছেলেকে! সূচনা-কাণ্ডে হাড়হিম মোটিভ প্রকাশ্যে

শেষ আপডেট: 9 January 2024 14:27

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্পর্কে বিচ্ছেদ প্রায় কোনও ক্ষেত্রেই মধুর হয় না। শুধু দুটো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া তো নয়, হাজার তিক্ততা, মনোমালিন্যের ফলেই এমনটা ঘটে, তা বিচ্ছেদের পরেও পিছু ছাড়ে না। দাম্পত্য সম্পর্কে বিচ্ছেদ হলে স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি ভুক্তভোগী হয় সন্তানও। বিষেশত শিশু সন্তান থাকলে তো কথাই নেই। বাবা-মায়ের টানাপড়েনের মাঝে নষ্ট হয় শৈশব। সূচনা শেঠের ক্ষেত্রেও তেমনটাই কি ঘটেছিল? তবে এক্ষেত্রে শৈশব নষ্ট নয়, বরং অকালে ঝরে গেছে! আর তার নেপথ্যে আছে এমন কারণ, যা জেনে চমকে উঠছেন মানুষজন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্টার্ট-আপ সংস্থা মাইন্ডফুল এআই ল্যাবের সিইও সূচনা শেঠকে সোমবার কর্নাটকের চিত্রদুর্গ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, গোয়ার ক্যান্ডোলিমের একটি অ্যাপার্টমেন্টে নিজেরই ছেলেকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে সূচনার বিরুদ্ধে। পুলিশ  শনিবার উত্তর গোয়ার ক্যান্ডোলিমের একটি বিলাসবহুল রিসর্টে ছেলেকে নিয়ে চেক-ইন করেন সূচনা। সোমবার তিনি একা রুম থেকে চেক আউট করেন এবং হোটেল কর্মীদের বেঙ্গালুরু যাওয়ার জন্য একটি ট্যাক্সি বুক করতে বলেন। ফ্লাইটে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি ট্যাক্সি নেওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রিসর্টের কর্মীরা।

রিসর্টের কর্মীরা খেয়াল করেন, মহিলার সঙ্গে তাঁর ছেলে নেই। এরপর যখন তাঁর ঘরে যান তাঁরা, তখন সেখানে রক্তের ছাপ পাওয়া যায়। সন্দেহ হতেই তারা গোয়া পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশের তরফে ট্যাক্সি ড্রাইভারের মারফত যোগাযোগ করা হয় সূচনা শেঠের সঙ্গে। তখনও গাড়িতেই ছিলেন সূচনা। তাঁকে ছেলের ব্যাপারে প্রশ্ন করতেই মহিলা জানান, তাঁর ছেলে এক বন্ধুর সঙ্গে তার বাড়িতে রয়েছে। এরপর পুলিশকে তিনি একটি ঠিকানা দেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সেটি একটি ভুল ঠিকানা। 

এরপর পুলিশ আবার ট্যাক্সি চালককে ডেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলে। সূচনা যাতে তাদের পরিকল্পনার কথা বুঝতে না পারেন, তার জন্য কোঙ্কনি ভাষায় কথা বলে গোয়া পুলিশ ড্রাইভারকে গাড়িটি নিয়ে চিত্রদুর্গের নিকটস্থ থানায় যেতে বলে। চালক সেখানে যেতেই গ্রেফতার করা হয় সূচনাকে। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকেই পাওয়া যায় ৪ বছরের ছেলের মৃতদেহ।

সূচনা কোনও গড়পড়তা মানুষ নন। তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বার্কম্যান ক্লেইন সেন্টারের একজন কর্মী। এছাড়া ডেটা সায়েন্স টিমকে পরামর্শ দেওয়ার, স্টার্ট-আপ ল্যাবগুলিতে মেশিন লার্নিং সলিউশন স্কেলিং করার ১২ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এরপর মাইন্ডফুল এআই ল্যাব নামে একটি স্টার্ট আপ খোলেন সূচনা, যেটির সিইও ছিলেন তিনি নিজে। 

পেশাগত জীবনে চূড়ান্ত সফল হলেও দাম্পত্য সম্পৰ্ক টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হন সূচনা। জানা গেছে, ২০১০ সালে বিয়ে করেন তিনি। তবে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে স্বামীর সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয় তাঁর। বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন যুগলে। ২০২০ সালে আইনত দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। তবে রাস্তা আলাদা হলেও সূত্র একটা ছিলই। সেটা হল, তাঁদের সন্তান। একরত্তি ছেলে কার কাছে থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছিল মামলা। শেষমেশ আদালত জানায়, ছেলে মায়ের কাছেই থাকবে। তবে সপ্তাহান্তে একবার তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন বাবা। 

রবিবার ছিল সেই দেখা করার দিন। সেটা যত ভাবছিলেন, ততই জ্বলুনি বাড়ছিল সূচনার। কিছুতেই বাবার সঙ্গে ছেলেকে দেখা করতে দেবেন না, ঠিক করেই নিয়েছিলেন। সেটা কীভাবে আটকানো যায়? সূচনা নিজেই নিজেকে উত্তর দিয়েছিলেন- 'খুন'! শুধুমাত্র প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে দেবেন না বলে মা হয়ে ৪ বছরের শিশুকে মেরে ফেলতে হাত কাঁপেনি সূচনার, এখনও পর্যন্ত এমনটাই জানাচ্ছে পুলিশ। 

সূচনাকে আপাতত গোয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তদন্তকারীরা। তাঁর স্বামীকে খবর পাঠিয়েছে পুলিশ। তিনি এসে পৌঁছলে শিশুটির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। 


```