বহু বছর ক্ষতির বোঝা টেনে চলার পর বিএসএনএল টানা দুটি ত্রৈমাসিকে লাভের মুখ দেখেছে—গত আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে লাভ হয়েছে ১,২৬২ কোটি টাকা।
.jpeg.webp)
২৫ বছরে বিএসএনএল।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের টেলিযোগাযোগ ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করল ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (BSNL)। সংস্থার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে উদ্বোধন হল ৯৭ হাজার ৫০০টি ৪জি মোবাইল টাওয়ার সাইট। সংস্থার দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই প্রকল্প কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, আত্মনির্ভর ভারতের পথে এক বড় পদক্ষেপ।
বিএসএনএলের নতুন ৪জি পরিষেবার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি নির্ভরতা। এই ‘স্বদেশি ৪জি টেকনোলজি স্ট্যাক’-এ রয়েছে: তেজস নেটওয়ার্কস নির্মিত রেডিও অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক, সি-ডট (C-DOT) নির্মিত কোর নেটওয়ার্ক এবং টিসিএস (TCS) সিস্টেম ইন্টিগ্রেটর। এই প্রযুক্তি তথা স্ট্যাক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত একটি প্ল্যাটফর্ম, কারণ এটি সফটওয়্যার আপগ্রেডের মাধ্যমে ৫জি-তেও রূপান্তরযোগ্য। বর্তমানে চণ্ডীগড় ও আম্বালায় ৫জি পরীক্ষামূলক ট্রায়াল চলছে।
নতুন টাওয়ারগুলির মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৯০০টি টাওয়ারে অর্থ জুগিয়েছে ডিজিটাল ভারত নিধি (DBN)। এগুলি প্রায় ২৬,৭০০টি দুর্গম, সীমান্তবর্তী ও বাম চরমপন্থা প্রভাবিত গ্রামকে সংযুক্ত করবে। ফলে প্রায় ২০ লক্ষ নতুন গ্রাহক ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই টাওয়ারগুলি সৌরশক্তি চালিত, যা দেশের বৃহত্তম গ্রিন টেলিকম পরিকাঠামো ক্লাস্টার তৈরি করেছে।
এই উদ্যোগের ফলে ভারত বিশ্বের পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান পেল, যারা নিজেদের তৈরি ৪জি টেলিকম স্ট্যাক মোতায়েন করতে সক্ষম হয়েছে।
বহু বছর ক্ষতির বোঝা টেনে চলার পর বিএসএনএল টানা দুটি ত্রৈমাসিকে লাভের মুখ দেখেছে—গত আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে লাভ হয়েছে ১,২৬২ কোটি টাকা। আর চতুর্থ ত্রৈমাসিকে মুনাফা হয়েছে ২,২৮০ কোটি টাকা। এটি সংস্থার পুনর্জন্মের ইঙ্গিত, যা রজতজয়ন্তী উদযাপনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
কলকাতা টেলিফোনস জেলা-র আওতায় রয়েছে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি। এখানে ১,৫৯৬টি ৪জি সাইট চালু হয়েছে। এই প্রকল্প খাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৮,৩৮৪ কোটি টাকা। ২৫ লক্ষ গ্রাহকের ভিত্তি নিয়ে গত আর্থিক বছরে রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে ৪৮৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে মোবাইল পরিষেবা থেকে এসেছে ১৯০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ টেলিকম সার্কেল (কলকাতা বাদে) ২,১৪৮টি ৪জি সাইট চালু করা হয়েছে। এ জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ২,৭৮২ কোটি টাকা। ২৬ লক্ষ গ্রাহকের ভিত্তিতে গত আর্থিক বছরে রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে ৪৮২ কোটি টাকা, যার মধ্যে মোবাইল পরিষেবা থেকে এসেছে ১৮৩ কোটি টাকা।
২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএসএনএলের গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি, যার মধ্যে ১ কোটি নতুন ৪জি গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। কেবল কলকাতা টেলিফোনস ও পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলই যোগ করেছে প্রায় ৭.৮ লক্ষ নতুন ৪জি গ্রাহক।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে বিএসএনএল জানিয়েছে, ডিবিএন-এর অধীনে তাদের ২৬,৭০০টি টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১,২১৩টি টাওয়ারের উদ্বোধন হয়ে গেছে। উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে ১৮,৯০০টি টাওয়ার। এই টাওয়ারগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই যুক্ত হয়েছেন ২০ লক্ষ গ্রাহক, কভারেজে এসেছে প্রায় ১ কোটি মানুষ। প্রতি গ্রাহকের ডেটা ব্যবহার মাসে গড়ে ২১ জিবি, যা জাতীয় গড়ের কাছাকাছি।
বিএসএনএল সিএমডি এ. রবার্ট জে. রবি আইটিএস বলেন, “বিএসএনএলের রজতজয়ন্তী এ এক নতুন সূচনার প্রতীক—দেশীয় ৪জি জাতীয় স্তরে পৌঁছে গেল। নীতিগত সহায়তা, দক্ষ পরিচালনা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ বাস্তবায়নের ফলে আমরা সাশ্রয়ী, নিরাপদ, টেকসই সংযোগ দিচ্ছি। এটাই আমাদের ৫জি-র দিকে যাত্রার গতিপথও।”
বিএসএনএলের ৯৭ হাজার ৫০০টি ৪জি টাওয়ার উদ্বোধন শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং ভারতের আত্মনির্ভরতা ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির এক শক্তিশালী বার্তা। আগামী দিনে এই স্বদেশী নেটওয়ার্ক দেশের কোটি কোটি মানুষকে দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং ৫জি যুগে প্রবেশের মসৃণ পথ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।