
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 September 2024 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর জি কর কাণ্ড নিয়ে কলকাতা সহ দেশজুড়ে যখন তোলপাড় চলছে, তখন ধর্ষণে অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দিল বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, কোনও যুবকের সঙ্গে প্রথমবার দেখা করার পরই তার সঙ্গে হোটেলের ঘরে চলে যেতে পারে না কোনও মেয়ে। বিচারপতি গোবিন্দ সনাপের এক সদস্যের বেঞ্চের আরও অভিমত, কোনও বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মেয়ে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে প্রথম দেখাতেই হোটেলের ঘরে চলে যেতে পারে না। কারণ, সে আগাম সে সতর্ক হয়ে যাবে।
হাইকোর্টে এক যুবতী অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে, অভিযুক্ত তাঁকে হোটেলের ঘরে ডেকে ধর্ষণ করেছিলেন। মামলায় প্রকাশ, তাঁদের দুজনের পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকের মাধ্যমে। তারপর থেকে তাঁদের মধ্যে চ্যাটিং এবং ফোনের মাধ্যমে কথাবার্তা চলত। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেয়েটির কলেজে ওই যুবকের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়। এরপর ওই যুবক তাঁকে জরুরি কথা বলার জন্য মেয়েটিরই বাড়ির কাছে একটি হোটেলে দেখা করার জন্য ডাকেন। কারণ ওই যুবক অন্য শহরের বাসিন্দা।
সেখানে দেখা করতে গেলে যুবকটি তাঁকে নিয়ে হোটেলের ঘরে অত্যন্ত গোপন ও জরুরি কথা বলার জন্য নিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়। মেয়েটি তাঁর কথামতো হোটেলের ঘরে গেলে দুজনের সম্মতিতে যৌন সম্পর্কে মিলিত হন তাঁরা। মেয়েটির অভিযোগ, ওই যুবক সেই সময় তাঁর কয়েকটি আপত্তিজনক ছবি তোলেন। এবং সেগুলি ফেসবুকে আপলোড করে দিয়ে মেয়েটির আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করেন। এই ঘটনার পর ছেলেটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।
মেয়েটির অভিযোগ, ওই ছবিগুলি অভিযুক্ত যুবক তাঁর প্রেমিকের কাছেও পাঠিয়ে দেন। এরপরেই তিনি মামলা দায়ের করেন। মেয়েটির অভিযোগকে 'অবিশ্বাস্য' বলে বিচারপতি বলেন, নির্যাতিতা বলে দাবি করা যুবতী কবে হোটেলে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, তার নির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারছেন না। রায়ে বলা হয়েছে, নির্যাতিতা অভিযুক্তের সঙ্গে হোটেলের ঘরে মিলিত হওয়ার আগে তাঁকে ভালোভাবে চিনতেন না। ওটাই ছিল তাঁদের প্রথম দেখা। যুবকের অনুরোধে তিনি হোটেলের ঘরে গিয়েছিলেন বলে মেয়েটির অভিযোগ। আমার মতে, কোনও জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এরকম ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণ করতে পারেন না।
আদালত আরও বলেছে, যদি মেয়েটি ছেলেটির কথামতো হোটেলের ঘরে গিয়েও থাকে, তাহলেও সে যখন সংকটে পড়েছিল তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করেনি কেন। হোটেলটির ঘর জনবহুল এলাকার থেকে দূরে ছিল এমনও নয়। আমার মতে, এইসব অভিযোগ অবিশ্বাস্য। আদালত এও প্রশ্ন তুলেছে যে, মার্চে আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করার পর অক্টোবরে কেন অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এতদিন নির্যাতিতা এবং তাঁর বাবা কেন অভিযোগ দায়ের না করে চুপ করে বসেছিলেন। এই বলে আদালত অভিযুক্ত যুবককে বেকসুর খালাস করে দেয়।