২০০৮ সালে নারায়ণ ও জানকীর বিয়ে হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন হলেও তাঁদের কোনও সন্তান নেই। এর আগে, ২০১৮ সালেই আদালত নারায়ণ সাইকে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

আসারামের 'ধর্ষক' ছেলের বিচ্ছেদ হল
শেষ আপডেট: 8 April 2026 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ন্যায়বিচার চেয়ে আইনের দরজায় বহুবার কড়া নেড়েছেন ইন্দোরের জানকী হরপালনি (Janaki Harpalani), দীর্ঘ ১৮ বছরের সেই অপেক্ষা এবার শেষ হল! স্বঘোষিত 'গডম্যান' আসারামের (Asaram Bapu) ছেলে ও ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারায়ণ সাইয়ের (Narayan Sai) স্ত্রী জানকী, এতগুলো বছরে কোনও আর্থিক সহায়তা বা সুরক্ষা পাননি। মানসিক অত্যাচার, অবহেলা আর একাকিত্বে ভরা দিনগুলো কাটানোর পর আদালত এবার তাঁর পাশে দাঁড়াল। নির্দেশ দিল, জেলবন্দি নারায়ণ সাইকে তিন মাসের মধ্যেই তাঁকে ২ কোটি টাকা ভরণপোষণ দিতে হবে।
মঙ্গলবার জানকীর আইনজীবী অনুরাগচন্দ্র গয়াল জানান, ২০১৮ সালে জানকী ফ্যামিলি কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা (Divorce Case) করেন। অভিযোগ ছিল, দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে মানসিক নির্যাতন-সহ নানা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ৫ কোটি টাকার এককালীন ভরণপোষণ দাবিও করেছিলেন।
এই মামলায় নারায়ণ সাই (Narayan Sai) অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু জানকীর পক্ষ থেকে প্রমাণ হিসেবে এমন অনেক নথি আদালতে পেশ করেন যা তাঁর মামলাকে আরও মজবুত করে দেয়। দু'পক্ষের আইনজীবীর সওয়াল শুনে গত ২ এপ্রিল বিচারক সাই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করেন এবং নারায়ণ সাইকে তিন মাসের মধ্যে ২ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
২০০৮ সালে নারায়ণ ও জানকীর বিয়ে হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন হলেও তাঁদের কোনও সন্তান নেই। এর আগে, ২০১৮ সালেই আদালত নারায়ণ সাইকে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু জানকীর আইনজীবীর দাবি, গত আট বছরে এক টাকাও পাননি তিনি।
এবারে ভরণপোষণের নির্দেশ দিয়ে বিচারক অভিযুক্তকে এও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এবারেও দায় এড়ালে চলবে না। যদিও নারায়ণ সাই জেলে থাকায় এই টাকা কীভাবে, কোন উৎস থেকে দেবেন, সেই প্রশ্নও উঠছে। তবুও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যেই ২ কোটি টাকা স্ত্রীকে দিতে হবে।
এই রায়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে এখন বড় স্বস্তি এসেছে। আদালতের সিদ্ধান্তে ১৮ বছরের দাম্পত্যের ইতি হলেও, ন্যায়বিচারের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হল।