দৃষ্টি হারানো নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্যের বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মেটা ও গুগলকে জানানো হয়েছে পদক্ষেপ নিতে।
.png.webp)
জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য
শেষ আপডেট: 12 October 2025 08:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামকথার বিখ্যাত বক্তা এবং পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য-এর বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে প্রচারিত কুরুচিকর ভিডিও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ। শনিবার মেটা (Meta) এবং গুগল-কে (Google) এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি শেখর বি সরাফ এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমারের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ শরদ চন্দ্র শ্রীবাস্তব ও অন্যান্যদের করা একটি পিটিশনের শুনানির সময় এই নির্দেশ দেয়।
কী নিয়ে অভিযোগ?
পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শশাঙ্ক শেখর নামে এক ব্যক্তি ইউটিউব, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে একাধিক চ্যানেল পরিচালনা করেন। তিনি রামভদ্রাচার্যের বিরুদ্ধে লাগাতার অবমাননাকর এবং মানহানিকর ভিডিও পোস্ট করে চলেছেন।
রামভদ্রাচার্য হলেন মধ্যপ্রদেশের চিত্রকূটে অবস্থিত জগদ্গুরু স্বামী রাম ভদ্রাচার্য ডিভ্যাং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য। পিটিশনে বলা হয়েছে, রামভদ্রাচার্যের অনুগামীরা আপত্তি জানালেও প্ল্যাটফর্মগুলি ভিডিওগুলো সরাতে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
আবেদনকারীদের দাবি, ভিডিওগুলিতে শুধু রামভদ্রাচার্যের মানহানি করা হয়নি, বরং তাঁর শৈশবে দৃষ্টি হারানোর অক্ষমতা নিয়েও উপহাস করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আবেদনকারীরা যেন সংশ্লিষ্ট URL লিঙ্কগুলি সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলিকে দ্রুত সরবরাহ করেন, যাতে ভিডিওগুলি সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।
শুনানির সময় রাজ্য সরকার আদালতকে জানায় যে, রাজ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কমিশনারের অফিস ইতিমধ্যেই বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং অভিযুক্ত শশাঙ্ক শেখরকে নোটিশ জারি করেছে। আগামী ১৮ অক্টোবর কমিশনের সামনে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পক্ষ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য কড়া নিয়ম তৈরি এবং তা কার্যকর করার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে অনলাইনে মানহানিকর বিষয়বস্তু ছড়ানো বন্ধ করা যায়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে ১১ নভেম্বর।