.jpeg)
এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
শেষ আপডেট: 24 March 2025 14:41
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, 'বিয়ের পরে স্বামীর একটি সম্প্রসারিত রূপ স্ত্রী নন, বরং তিনি নিজে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি। তাঁর নিজস্ব অধিকার, ইচ্ছা ও স্বাধীনতা রয়েছে। তাঁর শারীরিক স্বায়ত্তশাসন ও গোপনীয়তা রক্ষা করা শুধুমাত্র আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও।'
এই মামলায় মির্জাপুর জেলার প্রদ্যুম্ন যাদব নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারায় মামলা করা হয়েছিল। অভিযোগকারিণী, যিনি অভিযুক্তের স্ত্রী, তিনি দাবি করেন যে তাঁর স্বামী তাঁর অজান্তে মোবাইল ফোনে তাঁদের একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও তোলেন এবং পরে সেটি ফেসবুকে আপলোড করে দেন। শুধু তাই নয়, তিনি ওই ভিডিও স্ত্রীর আত্মীয় এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গেও শেয়ার করেন।
অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগকারিণীর বৈধ স্বামী, তাই তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারায় কোনও অভিযোগ টেকে না। এছাড়া, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আপোসের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে সরকারি আইনজীবী এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, 'অভিযোগকারিণী অভিযুক্তের বৈধ স্ত্রী হলেও তাঁর অজান্তে এবং সম্মতি ছাড়া অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন, যা কোনওভাবেই বৈধ বিবাহের ছত্রচ্ছায়ায় সুরক্ষিত নয়।'
এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করেছে যে বিয়ে নামক সামাজিক বন্ধনে জড়ালে, তা কোনও ভাবেই স্বামীকে স্ত্রীর উপর মালিকানা চালানোর অধিকার দেয় না। স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড বা শেয়ার করা শুধু আইনি অপরাধই নয়, এটি নৈতিকভাবেও গুরুতর অন্যায়।
এই রায়ের ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে নতুন নজির স্থাপিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।