
শেষ আপডেট: 26 December 2023 09:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চে স্থানীয় তিন নাগরিকের রহস্য মৃত্যুতে সেনা বাহিনীর দিকে আঙুল উঠেছিল। এলাকাবাসী সেনার বিরুদ্ধে ঠাণ্ডা মাথায় তিন নাগরিককে হত্যার অভিযোগ তুললে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেনা সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে চার সেনা কর্তাকে আপাতত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ওই ঘটনার সূত্র ধরে পুঞ্চ সফরে গিয়ে বাহিনীকে আরও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন সেনা প্রধান জেনারেল মনোজ পাণ্ডে। অপসারিত অফিসারদের একজন ব্রিগেডিয়ার। বাকিরা কর্নেল পদমর্যাদার।
তিন নাগরিককে মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত গত শনিবার। ঘটনাটি পুঞ্চের টোপা মাস্তানধারা এলাকার। ওই এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে সেনা-জঙ্গি লড়াই চলছিল। শনিবার সেখানে সেনা ছাউনির অদূরে তিন তরুণের দেহ উদ্ধার হয়। নিহতেরা হলেন, সাফির হুসেন (৩৭), সওকত হুসেন (২৬) এবং শাবির আহমেদ (৩২)। তাঁরা টোপা মাস্তানধারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আগের রাতে সেনা আট তরুণকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে তিনজনের দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সেনা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করলেও উচ্চতর কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখা শুরু করে। শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। সেনা হেফাজতে অত্যাচারে তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ।
সেনার একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে আভাস দিয়েছিল, গ্রামবাসীদের অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে বহুদিন পর এমন অভিযোগ উঠল। অনেক চেষ্টার পর স্থানীয়দের উপর নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ করা গিয়েছিল। কারণ সেনা কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে এলাকাবাসীর সহায়তা ছাড়া জঙ্গি দমন সম্ভব নয়। পুঞ্চের ঘটনায় সেনার ভাবমূর্তি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় গোটা ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওই ঘটনার পর স্বয়ং সেনা প্রধানের পুঞ্চ সফরে স্পষ্ট সেনাবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জেনারেল পাণ্ডে পুঞ্চ সেক্টরে সেনা ছাউনি সফরের পাশাপাশি বাহিনীর উদ্দেশে ভাষণ দেন। সেনা কর্তারা মনে করছেন, পুঞ্চের ঘটনায় বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কাশ্মীরে সেনার বিশেষ ক্ষমতার আইন আফ্সপা জারি থাকায় সন্দেহভাজন গ্রামবাসীদের আটক করার ক্ষমতা বাহিনীর আছে। কিন্তু সেনা হেফাজতে তাদের প্রতি কী ধরনের ব্যবহার করা হবে সেটা পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সেনা কর্তার পেশাদারিত্বের উপর নির্ভর করে।
তিন নাগরিককে খুনের অভিযোগ ঘিরে গ্রামবাসীদের প্রতিবাদের পাশাপাশি কাশ্মীর নিয়ে রাজনীতি চড়তে শুরু করে। বিজেপি দাবি করে থাকে, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করার পর উপত্যকায় আগের থেকে অনেক বেশি শান্তি বিরাজ করছে। বিজেপি নেতারা ‘নয়া কাশ্মীর’ কথাটিও চালু করেছেন। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা বিজেপির দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিগতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ক্ষমা চাইতে হবে।
জম্মু-কাশ্মীরে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। রাজ্যপালের তরফে নিহতদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ফারুকের বক্তব্য, ‘টাকা নিয়ে ক্ষতিপূরণ করা যাবে না। উপযুক্ত তদন্ত চাই।’