
শেষ আপডেট: 3 July 2024 22:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন রাজভবনেরই এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে আক্রমণ করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মানহানির মামলা করেছেন রাজ্যপাল। সেই মামলার পাল্টা মামলা হল! সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজভবনের সেই অভিযোগকারিণী। শীর্ষ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন তিনি।
শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার পর ক্রমাগত তাঁকে যেভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে তাতে ভীষণ ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল। বিশেষত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনের ঘটনা নিয়ে তাঁর নামে যে যে মন্তব্য করেছেন তা অপমানজনক বলেই মনে করেছেন বোস। সেই প্রেক্ষিতেই তিনি কলকাতা হাইকোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে মানহানির মামলা করেন। তবে সেই মামলার পরই দেখা গেল রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে গেলেন তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলা সেই রাজভবনের কর্মী।
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ উঠলেও সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি পুলিশ। তবে মহিলার বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছিল তারা। সেই সূত্রে রাজভবনের সিসিটিভি ফুটেজও চাওয়া হয়। যদিও তা দেয়নি রাজভবন। বরং জনসমক্ষে ফুটেজের কিছু অংশ দেখানো হয়েছিল। পরে অবশ্য কলকাতা পুলিশ সেই ফুটেজ হাতে পায়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্ট তদন্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। এমনকী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার পর যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল তাতেও হস্তক্ষেপ করেনি আদালত।
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যপাল বোস। যদিও তাঁর আবেদনে পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকায় তা প্রত্যাহার করে পুনরায় ফাইল করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভার দুই বিধায়কের শপথ গ্রহণ ঘিরে নতুন করে রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাতে পরিস্থিতি তৈরি হয়। নবনির্বাচিত বিধায়িকা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, তিনি রাজভবনে যাবেন না বিধানসভায় শপথ নেবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সায়ন্তিকার বক্তব্যকে সমর্থন করে জানান, রাজভবনের সাম্প্রতিক কার্যকলাপে সেখানে ভয়ে যেতে চাইছেন না মহিলারা।
এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যপাল বলেন, আত্মসম্মান নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলবে তাঁদের ফল ভুগতে হবে। তাঁর স্পষ্ট কথা, ''মুখ্যমন্ত্রী আমার সাংবিধানিক সহকর্মী। কিন্তু কেউ যদি আমার সম্মান নষ্টের চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'' অনেকেই মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার কারণেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা হয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট আদতে এই মামলায় হস্তক্ষেপ করে কিনা সে দিকে সকলের নজর থাকবে।