
শেষ আপডেট: 11 June 2023 04:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরে জাতিদাঙ্গা এবং দিল্লিতে কুস্তিগিরদের আন্দোলন দেশে সবচেয়ে আলোচিত দুটি ঘটনা নিয়ে মৌন নরেন্দ্র মোদী। মণিপুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস-সহ একাধিক দল। এবার আন্দোলনরত কুস্তিগিকদের অন্যতম বিনেশ ফোগট প্রশ্ন তুললেন তাঁদের আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায়।
একটি বিদেশি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিনেশ বলেছেন, ‘আমি মর্মাহত যে এতদিন হয়ে গেল, প্রধানমন্ত্রী একটি কথাও বললেন না। এটা বড় মানসিক আঘাত।’
কেন্দ্রের ক্রীড়ামন্ত্রী সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলেছেন ফোগট। গত রবিবার সকালে ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগের অনুরোধে তাঁর দিল্লির বাসভবনে গিয়েছিলেন কুস্তিগিরেরা। ফোগট সেই বৈঠকের বর্ণনা সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন। এই জাতীয় কুস্তিগির বলেন, ‘ক্রীড়ামন্ত্রী আমাদের কথা শোনার চাইতে মোবাইলেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন।’ সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে ফোগটের অভিযোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ক্রীড়ামন্ত্রীর বাড়ির বৈঠকে সরকারের তরফে কুস্তিগিরদের জানানো হয় কুস্তি ফেডারেশনের কর্তা ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংহের বিরুদ্ধে ১৫ জুনের মধ্যে পুলিশ চার্জশিট জমা করবে। তারপর আদালতের নির্দেশ মেনে পদক্ষেপ করবে পুলিশ।
যদিও এই আশ্বাস বড় কোনও প্রাপ্তি নয় বলেই আন্দোলনকারীরা মনে করছেন। অনুরাগের বৈঠকের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তাঁর বাড়িতে কুস্তিগিরদের ডেকে নিয়েছিলেন। সেই বৈঠকেই দ্রুত চার্জশিট জমা করার বিষয়ে কথা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, কুস্তিগিরদের তরফে হওয়া এফআইআরের একটিতে উল্লেখ আছে ব্রিজ ভূষণের আচরণ, মানসিক নির্যাতন নিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। মোদী তাঁর দিল্লির বাড়িতে কুস্তিগিরদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। সেখানেই এক কুস্তিগির একান্তে প্রধানমন্ত্রীকে সব জানান। ঘটনাচক্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চা-চক্রে প্রথমে ওই কুস্তিগিরকে ডাকা হয়নি। কারণ ব্রিজ ভূষণ তাঁর নাম প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠাননি। পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ওই কুস্তিগিরকে ডেকে নেয়। এই সুযোগে কুস্তি ফেডারেশনের ভিতরকার গোলমাল এবং ব্রিজ ভূষণের আচার-আচরণের কথা প্রধানমন্ত্রীর কানে তুলেছিলেন সেই মহিলা কুস্তিগির।
এদিকে, কুস্তিগিরদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হরিয়ানার ঘরোয়া রাজনীতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেখানে শাসক দল বিজেপির শরিক জনকল্যাণ জনতা পার্টি সরকার ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাতে অবশ্য রাজ্য সরকারের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ, নির্দলদের সমর্থন নিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে না। আসলে হরিয়ানার বিবাদে বিজেপিকে ভাবতে হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ নিয়ে। হরিয়ানায় জাঠ ভোট নিয়ে বিজেপি ভাবিত নয়। কিন্তু লাগোয়া পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে জাঠদের সমর্থন ছাড়া লোকসভার লড়াই কঠিন হয়ে পড়বে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সতর্ক করেছে উত্তরপ্রদেশ বিজেপি।
সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, কলকাতায় কি বৃষ্টি হবে? জেলায় জেলায় বড় পূর্বাভাস