
শেষ আপডেট: 1 June 2023 07:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রচণ্ড রাগ হলে হার্টবিট বেড়ে যায় আমাদের। চোখ-মুখ লাল হয়ে যায়, কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বেরোবে মনে হয়। তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে আমরা কতই না কটূ কথা বলি, ধমকধামক দিই। মানুষের হাবভাব, আচরণ, অভিব্যক্তি দেখেই বোঝা যায় যে সে রাগে একেবারে অগ্নিশর্মা হয়ে আছে। মানুষের যেমন রাগ হয়, মাকড়সারও (Funnel-Web Spider) হয়। ছ'পায়ের লোমশ বিদঘুটে দেখতে বিষাক্ত প্রাণীটাও কিন্তু রাগলে একেবারে বিষ ঝেড়ে দেয়। এমনিতে বিষের যা ধরন, রাগলে তাতে বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়। সব মাকড়সার তা হয় কিনা জানা নেই, তবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিষাক্ত ফানেল-ওয়েব (Funnel-Web Spider) মাকড়সা রাগলেই বিপদ। তার বিষের জ্বালায় প্রাণপাখী একেবারে খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হবে।

ফানে-ওয়েবের বড় রাগ, ঘন ঘন মুড বদলায়
মানুষের মুড-সুয়িং হয়, আর মাকড়সার হবে না! মানুষের মতো দ্বিপদ, বুদ্ধিদীপ্ত নাই বা হল, সন্ধিপদ পর্বের এই প্রাণীও কিন্তু কলাকৌশলে কিছু কম যায় না। তাদের বোনা জালের গঠন আর শিকার ধরার পদ্ধতিই তার প্রমাণ। বিশ্বে কোটি কোটি প্রজাতির মাকড়সার আছে। তাদের বিচিত্র রূপ, গঠন। সব প্রজাতির মাকড়সাই যে প্রচণ্ড বিষাক্ত তা নয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার ফানেল-ওয়েবদের ব্যাপারই আলাদা। বিজ্ঞানীরা বলেন, আফ্রিকার ব্ল্যাক-উইডোদের থেকেও নাকি ভয়ঙ্কর ফানেল-ওয়েবরা। এমনিতে তারা মানুষের ধার ঘেঁষে না। তবে যদি রেগে যায়, তাহলেই বিপদ। বিষের ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারবে। আর সেই বিষ শরীরে ঢুকলে, এক ছোবলেই ছবি হওয়ার উপক্রম হবে।

বনবিহারীবাবুকে মনে আছে তো? সেই যে, লখনউতে যাঁর বাড়িতে ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা ছিল! সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা গল্প ‘বাদশাহী আংটি’তে বনবিহারীবাবুর সংগ্রহে এমনই নানাধরনের মাকড়সা ছিল। বনবিহারীবাবু বলেছিলেন, মাকড়সার বিষ নিউরোটক্সিক। ফানেল-ওয়েবদের বিষ তেমনই। শরীর একেবারে ঝাঁঝরা করে দিতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার মিউজিয়াম সূত্রে খবর, ফানেল-ওয়েবদের কয়েকটি প্রজাতি আছে। সবকটিই বিষাক্ত। সিডনি ফানেল-ওয়েব (Atrax robustus), সাদার্ন ট্রি ফানেল ওয়েব (Hadronyche cerberea)। এই প্রজাতির মাকড়সা নিয়ে গবেষণা করছেন অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। তাঁরা বলছেন, সাধারণত স্ত্রী মাকড়সারা বেশি ভয়ঙ্কর হয়। কিন্তু ফানেল-ওয়েবদের পুরুষরা বেশি ক্ষতিকর। অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. লিন্ডা হার্নান্ডেজ বলছেন, ফানেল-ওয়েব প্রজাতির পুরুষরা তাদের মর্জি মতো বিষের উপাদান বদলাতে পারে। রাগলে তাদের হার্টরেট বেড়ে যায়, সেই সময় বিষের ধরনও বদলাতে থাকে। সাধারণত ফানেল-ওয়েবদের বিষে যেসব উপাদান থাকে, রাগলে আরও নতুন কিছু উপাদান তৈরি হয় যা বিষের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই সময় মাকড়সাদের মেটাবলিক রেট বেড়ে যায়। ফলে বিষ দাঁত একবার বসিয়ে দিলে তা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

ফানেল-ওয়েবরা আর্দ্র পরিবেশে থাকতে ভালবাসে। অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল ও জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় এদের বেশি পাওয়া যায়। আবার গাল্ফ রেঞ্জেও এদের দেখা মেলে। পুরুষ মাকড়সার এক একটি পা লম্বায় প্রায় ৭ সেন্টিমিটার। ভয়ঙ্কর বিষাক্ত। এদের আবার 'বিগ বয়' নামেও ডাকা হয়। ১৯৮১ সালেই এই মাকড়সার বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি হয়েছিল। সিডনিতে এই মাকড়সার আক্রমণে কম করেও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, মাকড়সার বিষ দাঁত ফোটালে খুব দ্রুত বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। আর যদি ফানেল-ওয়েবরা বিষের উপাদান বদলে ফেলে, তাহলে বড় বিপদ হবে। অ্যান্টিভেনম তাড়াতাড়ি না দিলে, মৃত্যু অবধারিত।