পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় মঙ্গলবার গভীর রাতে। খোদ সিইও দফতরের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, বেলেঘাটার তৃণমূল কাউন্সিলর এবং তাঁর দলবল দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছে রাজ্যের সিইও দফতর।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি মাসেই রাজ্য বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026)। প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল। তার আগে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল ফর্ম-৬ ইস্যুতে। সোমবার সিইও দফতরে গিয়ে ফর্ম-৬ (TMC Form 6 Protest) নিয়ে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। তাঁর অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়। মঙ্গলবারও দফতরের সামনে বিক্ষোভ বজায় ছিল।
এই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় মঙ্গলবার গভীর রাতে। খোদ সিইও দফতরের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, বেলেঘাটার তৃণমূল কাউন্সিলর (Beleghata TMC Councillor) এবং তাঁর দলবল দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছে রাজ্যের সিইও দফতর। স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলায় স্বচ্ছ এবং স্বাভাবিক ভোট করাতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। তাই শাসক দলের এই ধরনের কোনও রকম আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন।
Councillor Beleghata with some hooligans gheraoed the office of CEO and shouted slogans at the dead of night. Such anti social activities will not be tolerated and law will take its own course. ECI will leave no stone unturned to ensure free and fair assembly elections.@ECISVEEP pic.twitter.com/MURAIs5lqy
— CEO West Bengal (@CEOWestBengal) April 1, 2026
ফর্ম-৬ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে এবং বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে - তা নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, দফতরের সামনে গোলমাল হলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের। ওই এলাকায় বিশেষ আইন জারি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
আর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা নস্যাৎ করে সিইও-র বক্তব্য, ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। তাঁর কথায়, সারা বছর ধরেই এই আবেদনপত্র জমা দেওয়া যায়। সাম্প্রতিক যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, সেগুলির নিষ্পত্তি অবিলম্বে এই নির্বাচনের আগে করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান। কারণ, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। অফলাইনে জমা পড়া আবেদনগুলিকেও আগে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করতে হয়।
আসলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার কাজ হচ্ছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মনোজ আগরওয়াল জানান, কোনও ইআরও বা অন্য কেউ যদি তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেন, তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। এই বক্তব্যের মাধ্যমেই কার্যত শাসকদলের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দেন মনোজ আগরওয়াল।