
শেষ আপডেট: 27 February 2024 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামনবমীর মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল হাওড়ার শিবপুর, রিষড়া, উত্তর দিনাজপুরের বেশ কিছু এলাকা। মিছিলে হিংসার ঘটনাকে নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য-রাজনীতি। সেটা ২০২৩ সালের মার্চ মাস। ওই হিংসার ঘটনাকে ঘিরেই সে বছর ২৭ এপ্রিল এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মামলাতেই এবার ১৬ জনকে গ্রেফতার করল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি।
হাওড়ায় রাম নবমীতে অশান্তির ঘটনার পরদিনই আদালতে গিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সিবিআই তদন্তের দাবি করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এ ধরনের ঘটনা ফের ঘটতে পারে তাই উচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করুক। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে সওয়ালে বলা হয়, রাম নবমীতে যে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল তা একেবারেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বিষয়। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির কোনও এক্তিয়ার নেই। দুই পক্ষের সওয়াল শোনার পর হাওড়া, হুগলির ঘটনা নিয়ে রিপোর্টও চেয়েছিল আদালত। তারপরেই হাইকোর্ট এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয়।
হাওড়ার শিবপুর, হুগলির রিষড়া, উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা— তিন জেলার এই তিনটি জায়গায় রামনবমীর মিছিলে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। অঞ্জনী পুত্র সেনা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ ৪২ টি সংগঠন সেই মিছিল বের করেছিল। অভিযোগ, ওই তিন এলাকা দিয়ে যখন রামনবমীর শোভাযাত্রা যাচ্ছিল, সেই সময় মিছিলকে লক্ষ্য করে প্রথমে কাচের বোতল, ইট ও পাথর ছোড়া হয়। পরবর্তীতে পেট্রোল বোমাও ছোড়া হয়। রামনবমীর মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাওড়ার শিবপুর থানা এলাকার জিটি রোড চত্বর। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বাস, টোটোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
উত্তর দিনাজপুরেও একই ঘটনা ঘটে। গাড়ি, বাস ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। এরপরে এপ্রিল মাসে হুগলির রিষড়ায় ফের নতুন করে অশান্তি শুরু হয়। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। স্থানীয় বাজার, দোকানের উপরও হামলা হয় বলে জানা যায়।
এই ঘটনায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। ঘটনায় নতুন করে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।