
শেষ আপডেট: 17 November 2022 03:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোর করে ধর্ম পরিবর্তন (forced conversion) করার ঘটনায় তিনদিন আগেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। জবরদস্তি করে ধর্ম পরিবর্তন আটকাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া আইন তৈরির সুপারিশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর গতকাল বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) সরকার এই সংক্রান্ত আইনের বিধান আরও কঠোর করল।
গতকাল উত্তরাখণ্ড মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্ম পরিবর্তন আইনে কঠোর পরিবর্তন আনা হয়েছে। জোর করে ধর্মান্তকরণ জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে ওই রাজ্যের আইনে। এছাড়া সাজার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ১০ বছর করার সিদ্ধান্ত করেছে পুষ্কর ধামির সরকার।
জোর করে ধর্মান্তরকরণ ও লাভ-জিহাদ আগেই নিষিদ্ধ করেছে ওই রাজ্যের সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী ধামি গত বছর বলেছিলেন যে তিনি উত্তরাখণ্ড পুলিশকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং লাভ-জিহাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আরও বলেছিলেন, রাজ্য সরকার জোরপূর্বক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে আইন আরও কঠোর করবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের এপ্রিলে ওই রাজ্যের সরকার উত্তরাখণ্ডে ধর্মের স্বাধীনতা আইন পাশ করে। এর অধীনে, জোরপূর্বক বা প্রতারণামূলক ধর্মান্তরকরণের মামলাগুলিকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হত না। কারাবাসের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। যদিও পাশেই উত্তরপ্রদেশের আইনে ধর্মান্তকরণ জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হয়। সাজার মেয়াদও ১০ বছর। উত্তরপ্রদেশের আইনকে মডেল করে আইন তৈরি অথবা তা সংশোধন করে নিয়েছে বিজেপি শাসিত সরকারগুলি।
গত ১৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ভয় বা লোভ দেখিয়ে ধর্মান্তরকরণকে একটি গুরুতর বিষয় বলে অভিহিত করে। সোমবার একটি আবেদনের শুনানির সময়, আদালত বলেছে যে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ শুধুমাত্র ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের বিরুদ্ধেই নয়, দেশের নিরাপত্তার জন্যও একটা চ্যালেঞ্জ।
কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, যে ধর্মান্তরের এই ধরনের ঘটনা আদিবাসী এলাকায় বেশি দেখা যায়। আদালত তাঁকে বলেন, যদি তাই হয় তাহলে সরকার কী করছে?
এর পরে আদালত কেন্দ্রকে এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা পরিষ্কার করতে বলেছে। আদালত আরও বলেছে, সংবিধানে ধর্মান্তর বৈধ, কিন্তু জোর করে ধর্মান্তরকরণ নয়।
বিচারপতি এমআর শাহ এবং হিমা কোহলির একটি বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে জোর করে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সারা দেশের জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের দাবিতেই মামলা হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে।
আইনের দাবির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ২২ নভেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এই মাসের ২৮ নভেম্বর।