
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 23 November 2024 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬টি আসনে উপ নির্বাচন শেষ। তৃণমূলের জেলাওয়াড়ি সংগঠনে রদবদল এখন সময়ের অপেক্ষা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় যে ঝড়ের অপেক্ষায় এখন কৌতূহলী মুখ নিয়ে বসে রয়েছেন তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। তবে উপ নির্বাচনের ফলাফলের (West Bengal bypolls results 2024) পর মোটামুটি ভাবে স্পষ্ট যে, সম্ভাব্য সেই ঝড় থেকে এ যাত্রায় অন্তত নিজেদের উইকেট বাঁচাতে পারলেন তৃণমূলের তিন জেলা সভাপতি।
কদিন আগে তাঁর জন্মদিনের সন্ধেয় দ্য ওয়ালের সাংবাদিককে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তাঁর কাছে পারফরম্যান্সই শেষ কথা। কোনও নেতা ধরে পদ আঁকড়ে থাকা যাবে না। অকর্মণ্য-অকেজোদের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অভিষেক।
এমনিতে তৃণমূলের ব্যাপার স্যাপার নিয়ে আগাম আন্দাজ করা কঠিন। তা ছাড়া দলের অনেক মাতব্বর ও তাবড় নেতার কাছেও মমতা-অভিষেকের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপারে সঠিক খবর থাকে না। তবে কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, কোচবিহারের জেলা সভাপতির পদ থেকে নাও সরানো হতে পারে অভিজিৎ দে ভৌমিককে। লোকসভা ভোটে নিশীথ প্রামানিককে পরাস্ত করে কোচবিহার দখল করেছে তৃণমূল। তার পর আবার এবার উপ নির্বাচনে সিতাই আসনে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছে জোড়াফুল। এই পারফরম্যান্স ও সাফল্যের পর অভিজিতের অবস্খান মজবুত হল বলেই মনে করা হচ্ছে।
একই শর্ত প্রযোজ্য মেদিনীপুরের ক্ষেত্রেও। মেদিনীপুর লোকসভা ছিল বিজেপির দখলে। লোকসভা ভোটে অগ্নিমিত্রা পলকে পরাস্ত করে সেই আসনে জিতেছে তৃণমূল। তখনও জেলার সভাপতি ছিলেন সুজয় হাজরা। বস্তুত সুজয়কে আরেকটু রাজনৈতিক উচ্চতা দিতেই তাঁকে মেদিনীপুর বিধানসভা আসনের উপ নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছিল। এবার সুজয় নিজেও জিতে দেখালেন। ফলে মেদিনীপুরে জেলা সভাপতি পদে কোনও বদল হয়তো হবে না।
এ ছাড়া রয়েছে বাঁকুড়া। গোড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্থির করেছিলেন, যাঁরা লোকসভা ভোটে জিতেছেন তাঁদের আর জেলা সভাপতি পদে রাখা হবে না। সেই শর্তে কাকলী ঘোষদস্তিদার, মহুয়া মৈত্রদের সাংগঠনিক পদ যেতে পারে। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটতে পারে বাঁকুড়ার সাংসদ ও তৃণমূল জেলা সভাপতি হলেন অরূপ চক্রবর্তী। তালড্যাংরা বিধানসভার উপ নির্বাচনে তাঁর পছন্দের প্রার্থী ফাল্গুনি সিংহবাবুকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। ফাল্গুনি ৩৪ হাজার ভোটে জিতে যাওয়া অরূপ চক্রবর্তীরও সাফল্য বইকি। তাই অরূপের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে। বিকল্প না থাকায় তাঁকেই জেলা সভাপতি পদে রেখে দিতে পারেন মমতা-অভিষেক।
উপ নির্বাচনে নৈহাটিতেও বিপুল সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। বিজেপির ভোট সেখানে প্রায় ৪৫ হাজার কমে গেছে। বামেদের ভোট কমে অর্ধেক হয়েছে। সূত্রের দাবি, এর পুরস্কার পেতে পারেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তাপস রায় তৃণমূল ছাড়ার পর ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এবার পার্থকে ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হতে পারে।
বিপরীতে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট আসনে তৃণমূল জিতলেও সেখানে জেলা সভাপতি বদলের সম্ভাবনা রয়েছে ষোল আনা। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলাতেও বদল করা হতে পারে জেলা সভাপতি।