
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল সাংসদরা।
শেষ আপডেট: 13 February 2025 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ হত্যা কাণ্ডের আবহেই গত সেপ্টেম্বরে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়েছিল অপরাজিতা উইমেন চাইল্ড (ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল অ্যামেনমেন্ট) বিল ২০২৪। নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে এই বিল এনেছিল রাজ্য।
রাজ্যপালের পাশাপাশি সে সময় এই বিল রাষ্ট্রপতির কাছেও পাঠিয়েছিল তৃণমূল। এবার এই বিল নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সাংসদরা।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েন ছাড়াও তৃণমূলের ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ৯ জন মহিলা সাংসদও। নারী নির্যাতন রোধে রাজ্যের আনা ওই বিল দ্রুত পাশ করানোর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আর্জি জানান তৃণমূল সাংসদরা।
পরে তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাষ্ট্রপতি বিলটি পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের এই সাক্ষাৎ পর্বকে কটাক্ষ করে পদ্ম শিবিরের কটাক্ষ, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা। আরজি করের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে সব ধরনের চেষ্টা করেছে রাজ্য। এখন নিজেদেরকে সৎ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণ সংক্রান্ত পুরনো আইন রয়েছে। কিন্তু বাংলার জন্য তার কিছু বিধিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে নয়া এই বিলে।
সেই বিধিগুলি কী কী?
দ্রুত বিচারের বিধান, নির্দিষ্ট বিশেষ আদালত, নির্দিষ্ট তদন্তাকারী দল ও তার বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মতো কিছু বিধি রয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার বিধানও রয়েছে এই বিলে।
বিধি সংশোধনের তালিকাও লম্বা। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আর এক মাস নয়, নূন্যতম সাতদিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। মূল আইনে যেখানে এক বছরের মধ্যে শাস্তি দেওয়ার কথা বলা ছিল, তা সংশোধন করে এক মাসের মধ্যে করা হবে।
মূল আইনে কোনও থানায় ঘটনা নথিভুক্ত করার পর দু'মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা বলা ছিল। এই সংশোধনীতে তা কমে ২১ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে। যদি কোনও ক্ষেত্রে দেখা যায় ২১ দিনে তদন্ত শেষ করতে পারছে না, আরও ১৫ দিন অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। তখন তদন্তের দায়িত্ব চলে যাবে জেলা পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কারওর ওপর।
শাস্তির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যেমন, ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা অথবা মৃত্যু। গণধর্ষণের ক্ষেত্রে জরিমানা ও আমৃত্যু কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড।
ধর্ষণের অভিযোগের পাশাপাশি ধর্ষণকারীর আঘাতের কারণে যদি মৃত্যু হয় তাহলেও অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানা হবে। যদি কোমায় চলে যায়, সেক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানা করা হবে। সব মামলাই হবে জামিন অযোগ্য ধারায়।