দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ২০ জানুয়ারি সিকিম সীমান্তে ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের লাল ফৌজের একদফা সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার জানা গেল, টিকটক, উইচ্যাট সহ মোট ৫৯ টি চিনা অ্যাপ বরাবরের মতো নিষিদ্ধ করছে ভারত। গত জুন মাসেই ইলেকট্রনিক্স ও ইনফরমেশন টেকনোলজি মন্ত্রক থেকে ওই অ্যাপগুলি নিষিদ্ধ করা হয়। সম্প্রতি সেগুলি চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংস্থাগুলির কাছে সরকার জানতে চেয়েছিল, তারা কীভাবে ব্যবহারকারীদের থেকে বিভিন্ন তথ্য গ্রহণ করে। সেগুলি কী কাজে লাগে। কোম্পানিগুলি যে জবাব দিয়েছে, তাতে সরকার সন্তুষ্ট হয়নি। তাই অ্যাপগুলি বরাবরের মতো নিষিদ্ধ করে দেওয়া হল।
গতবছর মোট ২০০ টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল জনপ্রিয় স্মার্টফোন গেম পাবজি। নভেম্বরে ওই সংস্থা ঘোষণা করে, ভারতের জন্য বিশেষ ধরনের গেম আনবে। কিন্তু পরে জানা যায়, ভারত সরকার তাদের অনুমতি দেয়নি।
গত সেপ্টেম্বরে সরকার বিবৃতি দিয়ে বলে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯ এ ধারায় ওই অ্যাপগুলি নিষিদ্ধ করা হল। কারণ তারা এমন কিছু কাজে লিপ্ত হয়েছে যাতে ভারতের সার্বভৌমত্ব, সুরক্ষা ও প্রশাসন বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
তথ্যসংস্কৃতি মন্ত্রক থেকে বলা হয়, নানা সূত্রে থেকে জানা গিয়েছে, অ্যানড্রয়েড ও আইওএস প্ল্যাটফর্মে এমন কয়েকটি মোবাইল অ্যাপ পাওয়া যায় যেগুলি গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে। বেআইনিভাবে সেই তথ্য পাচার করে বিদেশে। ভারতের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন কোনও শক্তির কাছে সেই তথ্য পৌঁছায়। এর ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। তথ্য চুরির বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি চিনের পিএলএ সিকিম সীমান্তে নাকু লা অঞ্চলে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। ভারতীয় সেনা তাদের বাধা দেয়। তখন দু'পক্ষের মারামারি বাধে। উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কোনও পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি।
গত নভেম্বরে জানা যায়, চিনা সৈনিকরা সিকিম সীমান্তে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছে। গালওয়ানের সংঘর্ষের পরে সিকিম, অরুণাচলে চিনা বাহিনীর তৎপরতা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, ইস্টার্ন সেক্টরে আর্মি ভেহিকল মোতায়েন করছে চিন। তৈরি হচ্ছে এয়ারবেস যা প্রসারিত তিব্বত অবধি।
হিমাচলের কাউরিস পাসের কাছে চুরুপ গ্রাম ঘেঁষে রাস্তা তৈরি করছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। তুনজুম লা-র কাছে নতুন নির্মাণ হচ্ছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ডেমচক থেকে ৮২ কিলোমিটার দূরে শিকুয়ানহিতে চিনা যুদ্ধবিমানের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণেরাখা থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে চাংমুতে কমিউনিকেশন টাওয়ার বানাচ্ছে চিনা বাহিনী।
অরুণাচল সীমান্ত বরাবর চার জায়গায় সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করতে দেখা গিয়েছে চিনের বাহিনীকে। ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে আসাফিলা, টুটিং অ্যাক্সিস, চ্যাং জ়ি ও ফিসটেল-২ সেক্টরে সেনা মোতায়েন করতে দেখা গেছে চিনকে। ভারতের সেনা সূত্র জানাচ্ছে, এই চারটি স্পটের মধ্যে আসাফিলা এবং ফিসটেল-২ সেক্টরে চিনে বাহিনীর তৎপরতা বেশি। এই দুটি স্পট ভারতের সীমান্তের খুবই কাছে। অনুমান করা হচ্ছে এই দুই এলাকায় সেনার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি রাইফেল ডিভিশনও মোতায়েন করছে পিপলস লিবারেশন আর্মি।