ইতালিতে করোনা-সংক্রমণের নতুন আতঙ্ক মৃতদেহের স্তূপ! মর্গগুলোয় আর জায়গা নেই, বাড়ছে বিপদ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের আক্রমণ বোধহয় চিনের চেয়েও মারাত্মক ভাবে প্রভাবিত করতে চলেছে ইতালিকে। যেভাবে হু হু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, তাতে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। শুধু সোমবারেই করোনা আক্রান্ত ৩৪৯ জনের মৃত্যুর খবর নি
শেষ আপডেট: 17 March 2020 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের আক্রমণ বোধহয় চিনের চেয়েও মারাত্মক ভাবে প্রভাবিত করতে চলেছে ইতালিকে। যেভাবে হু হু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, তাতে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। শুধু সোমবারেই করোনা আক্রান্ত ৩৪৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে ইতালিতে। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ১৫৮ জন। এই অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীদের দেহ কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। এত অস্বাভাবিক সংখ্যায় মৃত্যুকে সামাল দেওয়ার পরিকাঠামো নেই সে দেশের।
সরকারি সূত্রের খবর, প্রতিদিন একের পর এক বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। কিন্তু সেই অনুযায়ী জায়গার সংকুলান হচ্ছে না মর্গে। তাই দেহগুলি নিরাপদে রাখার জায়গা নেই। স্বাস্থ্যকর্তাদের, দাবি রোগীর তুলনায় হাসপাতালের সংখ্যা বেশ সীমিত ইতালিতে। হাসপাতালের বেডে রোগীদের রাখারও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। মারা যাওয়ার পরে সমস্যা আরও বাড়ছে। কারণ যেমন-তেমন ভাবে ফেলে রাখা যাচ্ছে না দেহগুলি। ছড়িয়ে পড়বে সংক্রমণ। অথচ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গে রাখার জন্য যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা আর নেই ইতালিতে।
চিনের বাইরে করোনাভাইরাসের এমন দাপট আর কোনও দেশে দেখা যায়নি। মৃত্যুর হার হিসেব করলে তো চিনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ইতালি। এই পরিস্থিতির জন্য অনেকেই দায়ী করছেন, ইতালি সরকারের দেরি করে সতর্ক হওয়াকে। কারণ ইতালির উত্তরে যখন সর্বপ্রথম এই ভাইরাস ছড়িয়ে ছিল, তখন যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করেনি সরকার।দেশের ওই অংশকে যে লকআউট করতে হবে,
সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অনেক দেরিতে, গত সোমবার। ততক্ষণে যা বিপদ হওয়ার হয়ে গেছে। ইতালিতে করোনার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে লম্বার্ডি শহর। এ শহরে এমন কোনও বাড়ি নেই, যেখানে কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি! স্বাভাবিক ভাবেই হাসপাতালে বেডের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। টান পড়েছে চিকিৎসা সামগ্রীতেও।
এমন পরিস্থিতিতে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন সে দেশের চিকিৎসকরা। কারণ চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং পরিকাঠামোর অভাবে হাত-পা বাঁধা পড়েছে তাঁদের। ইতালিতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথম সারিতে থাকা চিকিৎসকরা বলছেন,
এত রোগীর ভিড় বাড়ছে রোজ,
যে কাদের তাঁরা চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করবেন এবং কাদের বাধ্য হয়ে ফেলে রাখবেন,
তা তাঁদের বেছে নিতে হচ্ছে। ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সের ব্যক্তিরা যদি অসুস্থ হয়ে আসেন,
তাঁরা যদি ভীষণ শ্বাসকষ্টেও ভোগেন তবে চিকিৎসার জন্য এগিয়ে যেতে পারছেন না তাঁরা। কারণ অল্পবয়সি অসংখ্য মানুষ একই সঙ্গে এসে দাঁড়িয়েছেন চিকিৎসার জন্য।
এদিকে ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি গড় বয়স ইতালির জনগণের। এখানকার জনসংখ্যার ২৫ শতাংশেরই বয়স ৬৫-র বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, এই বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ফলে,
মৃতের হারও ইতালিতেই বেশি। আক্রান্তের সংখ্যাও পেরিয়েছে ২৫ হাজার। এখন এমনই অবস্থা, ইতালির খবরের কাগজগুলির পাতায় শুধুই ‘স্মৃতির উদ্দেশে’ কলাম ভরা। কোনও কোনও সংবাদপত্রে ১০ পাতারও বেশি জায়গা জুড়ে মৃতদের নাম-পরিচয় দেওয়া। আর কোনও খবরই নেই।
মৃতদেহের সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকায় সুস্থ মানুষদের সংক্রমণ থেকে বাঁচানোই নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।