
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 March 2025 08:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শালোয়ার কামিজ পরে (Dress Controversy) স্কুলে আসায় শিক্ষিকাকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছিল। মারধর, এমনকী চুলও ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ বছর ধরে চলা ওই মামলা দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
একই সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্কুল পরিদর্শককে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ওই শিক্ষিকাকে পুনরায় নিয়োগের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
আদালত সূত্রের খবর, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে শালোয়ার কামিজ পরে স্কুলে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন ইংরেজির শিক্ষিকা মধুরিমা দাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশপুর প্রফুল্ল বালিকা বিদ্যালয়ের ঘটনা।
শিক্ষিকার আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরীর অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ফতোয়া জারি করেন, স্কুলে আসতে হলে শাড়ি পরে আসতে হবে। ওই শিক্ষিকা জানিয়ে দেন, তাঁর পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। কারণ, তাঁকে বাঁশদ্রোনি থেকে বাসন্তী প্রতিদিন বাসে, ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়, তাই প্রতিদিন স্কুলে শাড়ি পরে আসা সম্ভব নয়।
অভিযোগ তর্কাতর্কির মধ্যেই অভিভাবকদের একাংশের উপস্থিতিতে বেশ কিছু শিক্ষিকা তাঁকে চূড়ান্ত হেনস্থা করেন। শিক্ষিকাকে মারধর ও মাথার চুল কেটে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। আশিসবাবু বলেন, ঘটনার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা। পরে পুলিশ তাঁকে স্কুল থেকে উদ্ধার করে।
অভিযোগ, এরপর থেকে ওই শিক্ষিকাকে আর স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বেতন বন্ধ করে দেয়। ঘটনার জেরে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকেন শিক্ষিকা। পরে শিক্ষা দফতরের দ্বারস্থ হলেও সমস্যার সুরাহা হয়নি।
ওই মামলাতেই বিচারপতি রায় চট্টোপাধ্যায়র সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ওই শিক্ষিকাকে পুনরায় নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।