দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানের বাঘলান প্রদেশ থেকে ২০ জন শিশুকে অপহরণের অভিযোগ উঠল তালিবানের বিরুদ্ধে। ক্ষমতা দখলের পরে যে শান্তি ও ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা, তার অনেকটাই ভঙ্গ হল এই কীর্তিতে। তবে এর পেছনে বিশেষ কারণও রয়েছে। আফগান মিডিয়া জানিয়েছে, ওই বাচ্চাগুলির বাবারা তালিবান-বিরোধী জোটের যোদ্ধা। তাই প্রতিশোধ নিতেই এই অপহরণ।
আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সেনাবাহিনীর সৈনিকরা গত কয়েকদিন ধরে ফের জোট বাঁধছেন। তালিবানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি চালাচ্ছেন তাঁরা। একইসঙ্গে তাঁদের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা তালিবানের সঙ্গে বোঝাপড়ারও পক্ষপাতী। তালিবান কাবুল দখলের পরেই কয়েক হাজার আফগান পাড়ি দেন উত্তর দিকের পঞ্জশিরের উদ্দেশে। ওই অঞ্চলটি দখল করতে পারেনি জঙ্গিরা। আফগান নাগরিকরা সেখানে গিয়ে প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন।
কয়েকদিন আগে শোনা যায়, তালিবানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘটেছিল আফগানিস্তানের অন্তত একটি অঞ্চলে। আফগানিস্তানের খামা প্রেসের খবর অনুযায়ী, বাঘলান প্রদেশের একটি জেলাতেই তালিবানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। ওই জেলাটি আপাতত জঙ্গিদের হাতছাড়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষ দাবি করছেন, দেহ সালাহ এবং কোয়াসান নামে দু'টি জেলাতেও আর তালিবানের নিয়ন্ত্রণ নেই।
এই বিরোধী বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে আপাতত ব্যাকফুটে তালিবান। বেশ কিছু এলাকাও হাতছাড়া হয়েছে তালিবানের৷ তারই বদলা হিসেবে শিশুদের অপহরণ করেছে জঙ্গিরা৷ জানা গেছে, ওই শিশুদের পরিবারের যোদ্ধাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে তালিবানের তরফে৷ বলা হয়েছে, অস্ত্র ছেড়ে আত্মসমর্পণ করো৷
গত রবিবার কাবুলের পতনের পর দেশ ছেড়ে পালান প্রেসিডেন্ট আশরফ ঘানি৷ এর পরেই আফগানিস্তানে সরকার গঠনে তৎপর হয় তালিবান৷
এর পাশাপাশিই তালিবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠেআফগানিস্তানের উত্তরে। রবিবার তালিবান কাবুল দখল করার পরে যখন সারা দেশ আতঙ্কে, অস্থিরতায় উত্তাল, তার দু'দিনের মধ্যেই পঞ্জশিরে ওরে তালিবান-বিরোধী জোটের সবুজ পতাকা।
দুর্গম পার্বত্য এলাকা পঞ্জশিরের নেতা আহমেদ মাসুদ আজহারের নেতৃত্বে তালিবানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে নর্দার্ন অ্যালায়েন্স৷ বিখ্যাত মুজাহিদিন কম্যান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদকে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের দু'দিন আগে খুন করেছিল আল কায়েদা। তাঁরই ছেলে আহমেদ মাসুদ পঞ্জশির অঞ্চলে ৯ হাজার সেনা নিয়ে তালিবানের বিরুদ্ধে বাহিনী গড়ে তুলেছেন।
এর আগেও ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে যে সময় আফগান গৃহযুদ্ধ চলছিল, সে সময়ে বিশেষ প্রতিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল হিন্দুকুশের মাঝে থাকা পঞ্জশির প্রদেশ। একমাত্র সেখানেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি তালিবান। এবারও ঠিক তাই হয়েছে। কাবুল-সহ গোটা আফগানিস্তানকে কব্জা করে নিলেও পঞ্জশিরে এখনও পা রাখতে পারেনি তালিবান।
এর বিশেষ কারণও রয়েছে। পঞ্জশিরের ভৌগোলিক অবস্থানই এমন, এটি প্রায় দুর্গের মতো নিরাপদ। দুর্গম হিন্দুকুশ পেরিয়ে পার্বত্য এই এলাকা দখল করতে পারেনি সোভিয়েত ইউনিয়নও।
তাই এবারও পঞ্জশিরের পতাকা তালিবানকে কড়া বার্তা দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু শিশুদের অপহরণ করার মতো কাজ যদি তালিবান করতে থাকে, তাহলে লড়াই যে আরও কঠিন হবে, তা বলাই বাহুল্য।