
শেষ আপডেট: 9 August 2023 07:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশে এক আদিবাসী দলিতের গায়ে প্রস্রাব করার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপি-বিধায়ক ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভিডিও ভাইরাল হতেই ওই আদিবাসী অত্যাচারিতকে নিজের বাড়িতে ডেকে তাঁর পা ধুইয়ে দিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্য়মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তারপরও তালিবানি মনোভাবের (Taliban rule) বিশেষ বদল যে ঘটেনি, ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) দুমকায় উঠে এল তেমনই এক নির্মম ছবি।
তৃণমূলের তরফে অভিযুক্ত নেতার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে টুইটে লেখা হয়েছে, ‘‘ঝাড়খণ্ডে মুসলিম যুবককে বিজেপির প্রাক্তন বিধায়কের হেনস্তার এই ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক। এই ঘটনায় প্রমাণ করে বিজেপি নেতাদের নৈতিকতা বোধের অভাব। সামগ্রিকভাবে দলেরও সেই একই অবস্থা।’’ দ্য ওয়াল অবশ্য ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনাটি গত ৬ আগস্টের। প্রকাশ্যে এসেছে মঙ্গলবার। ভাইরাল ভিডিও-র ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সালিশি সভার স্টাইলে চেয়ার বসে রয়েছেন বিজেপির জারমুণ্ডির প্রাক্তন বিধায়ক দেবেন্দ্র কুনওয়ার। তাঁর চারিদিকে জনতা। সামনে দাঁড়িয়ে দুমকার সাধুডিহ গ্রামের তৌসিফ নামের এক মুসলিম যুবক। প্রাক্তন বিধায়ক তাঁকে কখনও অশ্রাব্য গালিগালাজ করছেন, কখনও লাথি মারছেন। কান ধরে ওঠবোস করতেও দেখা যায় তৌসিফকে। এমনকী মাটিতে থুতু ফেলে সেটা চাটতে বাধ্য করা হয় ওই যুবককে।
ভিডিও ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। অভিযুক্ত বিজেপি নেতার শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তৌসিফের গ্রামের বাসিন্দারাও। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির জারমুণ্ডির প্রাক্তন বিধায়ক দেবেন্দ্র কুনওয়ারের অভিযোগ, নদীতে স্নানরত মেয়েদের ছবি তুলছিলেন তৌসিফ। তাই তিনি তাঁকে ‘শাস্তি’ দিয়েছেন। গ্রামবাসীরা অবশ্য জানিয়েছেন, এমন কোনও ঘটনায় ঘটেনি। দোষ ঢাকতেই মিথ্যে কথা বলছেন বিজেপি নেতা।
স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, তবু তর্কের খাতিরে বিজেপি নেতার অভিযোগকে যদি সঠিক হিসেবেও ধরে নেওয়া হয়, তবু তিনি কীভাবে আইন নিজে তুলে নিতে পারেন? পুরো ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকাও। যদিও পুলিশের দাবি, তাঁদের কাছে এমন কোনও অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বুদ্ধদেববাবু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন, ‘ফিট’ আছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, স্ত্রীর সঙ্গে বাড়ি ফিরলেন