দ্য ওয়াল ব্যুরো : একসময় স্থির হয়েছিল, ৯/১১-র জঙ্গি হানার ২০ বছর পূর্তিতে শপথ নেবেন তালিবান মন্ত্রীরা (Taliban Ministers)। কিন্তু একাধিক সূত্র থেকে শোনা গিয়েছে, দেশের শোচনীয় আর্থিক অবস্থার প্রেক্ষিতে সেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তালিবান মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য চিন, তুরস্ক, পাকিস্তান, ইরান, কাতার, রাশিয়া, ভারত ও আমেরিকাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শুক্রবার ক্রেমলিন থেকে জানানো হয়, রাশিয়া তালিবান মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না।
এরপরে তালিবানের কালচারাল কমিশনের সদস্য ইনামুল্লা সামাঙ্গানি টুইট করে বলেন, কয়েকদিন আগেই মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য আমরা জানাচ্ছি, ইসলামি আমিরশাহি ইতিমধ্যে মন্ত্রীদের কাজ শুরু করতে বলেছে।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, শীঘ্রই ব্যাপক দারিদ্রের মধ্যে পড়বে আফগানিস্তান। সেই দারিদ্রের মোকাবিলা করতে হবে তালিবান শাসকদের। তাঁরা ইতিমধ্যেই বুঝতে পারছেন, দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর চেয়ে কম কঠিন নয়।
দেশের শোচনীয় আর্থিক অবস্থার কথা ভেবেই মন্ত্রিসভা গঠনের আগে তালিবান কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নতুন গভর্নরের নাম ঘোষণা করে। ১৫ অগাস্ট তালিবান কাবুল দখল করার পরেই দেশের ব্যাঙ্কগুলি অচল হয়ে পড়েছিল। এটিএম বুথেও টাকা ছিল না। অর্থ লেনদেনের হাওলা চ্যানেলও এখন বন্ধ। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার গঠনের আগেই হাজি ইদ্রিস নামে এক ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কর্তা নিয়োগ করতে হয়।
আফগানিস্তান বরাবরই গরিব দেশ। সেখানকার ৭০ শতাংশ মানুষের দৈনিক আয় দুই ডলারের কম। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী দিনে দেশটি আরও দরিদ্র হতে চলেছে। চলতি আর্থিক বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই দেশের জিডিপি কমবে ২০ শতাংশ। হাজি ইদ্রিস এতদিন তালিবানের অর্থনীতির দায়িত্বে ছিলেন। তালিবানের আশা, আগামী দিনে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারবেন।
তালিবান কাবুলে ক্ষমতা দখলের পরে আফগানিস্তানে বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নতুন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে হাজি ইদ্রিসকে।
একটি সূত্রে জানা যায়, তালিবান কাবুলে ঢোকার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা আফগানদের ১ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি ফ্রিজ করে দেয়। তাছাড়া আইএমএফ এবং বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়ে দিয়েছে, আর ঋণ পাবে না আফগানিস্তান। ২০১২ সালে জেনিভায় অনুষ্ঠিত এক কনফারেন্সে বিভিন্ন দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আগামী চার বছরে আফগানিস্তানকে ১২০০ কোটি ডলার দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতিও আপাতত পালিত হওয়ার কোনও আশা নেই।