
শেষ আপডেট: 8 February 2024 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামাজিক প্রকল্পগুলিতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো-সহ একাধিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পেশ হয়েছে চলতি অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট। বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পগুলির সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলে এদিন ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। কিন্তু বাজেট পেশের পরেই এই বাজেটকে ‘লোকসভা ভোটের প্রচার’ বলে আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, এই বাজেট ‘দিশাহীন’, কথার খেলায় মানুষজনকে বোকা বানানোর চেষ্টা হয়েছে।
বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বিধানসভা। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পড়তে শুরু করা মাত্রই হই হট্টগোল শুরু করেছিলেন বিরোধীরা। এসবের পর নির্বিঘ্নে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। তা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিধানসভায় নির্দিষ্ট কক্ষে সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “ শাসকদলের মন্ত্রী-বিধায়করা জেলে। সন্দেশখালিতে জনজাগরণ ঘটেছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে এই বাজেট পেশ করা হয়েছে।” শুভেন্দুর দাবি, “ এই বাজেটে পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থান, শূন্যপদে নিয়োগ, শিল্প ও বাণিজ্যের পরিবেশ, রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও দিশা নেই। বাজেটে আছে শুধু কথার খেলা। আর কিছু অর্থ বিলোনোর চেষ্টা হয়েছে। বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকার পরিমাণ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা যা বাড়ানো হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।”
শুভেন্দু বলছেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ১০০০ টাকা পাবেন সাধারণ শ্রেণির মহিলারা। আর তফসিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য তা ১২০০ টাকা। অর্থাৎ উভয়ের ফারাক মাত্র ২০০ টাকা। এই ২০০ টাকা বাড়িয়ে তফসিলি জাতি-উপজাতির মহিলাদের অপমান করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিরোধী দলনেতা বলছেন, “রাজ্য বাজেটে দার্জিলিংয়ের পাহাড়, জঙ্গলমহল, সুন্দরবন, কৃষকরা উপেক্ষিত। সিভিক ভলান্টিয়ারদের মাত্র ৯ হাজার টাকা দিয়ে পুলিশের সমান কাজ করানো হয়। বাজেটে তাঁদের বেতন মাত্র ১ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে।” পেট্রল, ডিজেলে কোনও ছাড়ের উল্লেখ নেই বাজেটে। এলপিজি সিলিন্ডারে রাজ্য ৩০০ টাকা করে কর নেয়। রাজস্থান ৪০০ টাকা ছাড় দিয়েছে। রাজ্য সরকারের বাজেটে এলপিজি সিলিন্ডারের ছাড়ের কোনও উল্লেখই নেই।
বাজেটে ৫ লক্ষ চাকরির কথা ঘোষণা করা হলেও কবে কোন দফতরে কত নিয়োগ হবে তার কোনও উল্লেখ নেই, এমনটাই দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ দেওয়ার পরেও কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের কর্মচারীদের ডিএ-র ফারাক ৪০ শতাংশ। তাছাড়া ডিএ পাওয়া যাবে সেই ভোট গণনার পর। শুভেন্দু বলছেন, শিল্পের কোনও দিশা নেই বাজেটে। সংখ্যালঘু মুসলিমদের উন্নয়নের জন্য কোনও ঘোষণা নেই। আদিবাসী, লেপচা, ভুটিয়ারাও এই বাজেটে উপেক্ষিত। হাসপাতাল, শিক্ষার খাতেও বাজেটে কোনও বরাদ্দ করা হয়নি। এই বাজেট মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।