আত্মীয়া হওয়া জরুরি নয়, শর্ত মেনে যে কেউ হতে পারেন সারোগট মাদার, সুপারিশ সংসদীয় প্যানেলের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধুমাত্র নিকট আত্মীয়াই নন, ‘ইচ্ছুক’ যেকোনও নারীই সারোগেট মা হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন বলে সুপারিশ করল সংসদীয় প্যানেল। সারোগেসি (রেগুলেশন) বিল, ২০১৯-এ পনেরোটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে রাজ্যসভার ২৩ সদস্যের এ
শেষ আপডেট: 5 February 2020 14:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধুমাত্র নিকট আত্মীয়াই নন, ‘ইচ্ছুক’ যেকোনও নারীই সারোগেট মা হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন বলে সুপারিশ করল সংসদীয় প্যানেল। সারোগেসি (রেগুলেশন) বিল, ২০১৯-এ পনেরোটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে রাজ্যসভার ২৩ সদস্যের একটি সিলেক্ট কমিটি। সেখান থেকে ‘বন্ধ্যত্ব’ (ইনফার্টিলিটি) শব্দের সংজ্ঞাটিকেই বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বন্ধ্যত্বের সংজ্ঞায় বলা হয়েছিল, জন্মনিরোধক কোনও রকম কিছু ব্যবহার না করে পাঁচ বছর ধরে মিলনের পরেও কোনও নারী গর্ভধারণ না করতে পারলে তাঁকে বন্ধ্যা বলা হবে। সন্তান কামনা করছেন এমন দম্পতির কাছে এই সময়টি অত্যন্ত দীর্ঘ বলে তাঁরা মনে করছেন।
কমিটি বলেছে, ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী বিধবা বা বিবাহবিচ্ছিন্নার মতো নিঃসঙ্গ মহিলাকে সারোগেসির জন্য অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
সারোগেট মা হওয়ার জন্য নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ করে রাখলে এমন মা পাওয়া মুশকিল হতে পারে বলেই তাঁরা মনে করেন। সেক্ষেত্রে যাঁরা সত্যিই সন্তান কামনা করছেন তাঁরা সমস্যায় পড়তে পারেন তাই এই বিষয়টি তাঁরা বিল থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। তাঁরা চান আইন মেনে একজন ইচ্ছুক মহিলাকে এই সুযোগ দেওয়া হোক। সারোগেট মাদারের জন্য বিমার সমযসীমা ১৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করার সুপারিশও করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। সারোগেসি (রেগুলেশন) বিল, ২০১৯ এখনও রাজ্যসভায় পাশ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যান ভূপিন্দর যাদব বুধবার এই রিপোর্ট পেশ করেছেন।
সারোগেসির সুবিধা নেওয়ার জন্য পাঁচ বছর অপেক্ষা করানোর পক্ষপাতি নয় কমিটি। তাই কমিটি চায় এই অংশটি বাদ দেওয়া হোক। তার বদলে চিকিৎসা শাস্ত্রের কয়েকটি বিষয় তাঁরা যোগ করার পক্ষে রায় দিয়েছেন যেমন জন্মের সময় থেকেই ইউটেরাস না থাকা, ক্যান্সারের ফলে ইউটেরাস বাদ দেওয়া, ইউটেরাসে টিউমারজাতীয় কোনও মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়া (ফিব্রয়েডস) প্রভৃতি। শারীরিক কোনও অসুস্থতা জন্য যদি কারও পক্ষে সারোগেসি ছাড়া অন্য উপায়ে মা হওয়া সম্ভব নয় বলে যদি ডাক্তাররা জানিয়ে দেন সেক্ষেত্রেও এই সুযোগ নেওয়া যেতে পারে।
‘বন্ধ্যত্ব’ শব্দ বাদ দিয়ে তার বদলে যদি ডাক্তার এমন শংসাপত্র দেন যে কোনও একজন মহিলার পক্ষে সন্তান ধারণ করা সম্ভব নয় সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট মহিলা এই সুবিধা নিতে পারেন।
কোনও একজন ব্যক্তি কী ভাবে সারোগেট মা হতে পারেন সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট শর্ত রাখার কথা বলেছে সংশ্লিষ্ট প্যানেল। যেমন কোনও কম বয়সী বিধবা যিনি সন্তান ধারনে সক্ষম কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে সন্তান ধারণ করতে পারছেন না তিনি চাইলে এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।
সারোগেসি বোর্ডের শংসাপত্র পেয়েছেন এমন কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট দেশে যাতে সারোগেট করতে পারেন সেই ব্যাপারেও সুপারিশ করেছে সিলেক্ট কমিটি।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ও আর্থিক বিষয় বিবেচনা করে বিমার সময়সীমা ষোলো সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ছত্রিশ সপ্তাহ করার সুপারিশ তাঁরা করেছেন।
অন্যান্য খরচের মধ্যে পুষ্টিকর খাবার ও মাতৃত্বের সময়ের জন্য যে পোষাক প্রয়োজন হয় ও সুস্থ থাকার জন্য যে সব অর্থ খরচ হয় সেই টাকাও অন্তর্ভুক্ত করতে পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।
সারোগেসির ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর স্বার্থ সুরক্ষিত করার উপরেও জোর দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। তারা সুপারিশ করেছে সদ্যোজাত শিশুর মা-বাবা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে নির্দেশিকা দেবেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট যেটি হবে শিশুটির জন্ম সংক্রান্ত হলফনামা।
সাধারণ সুপারিশ হিসাবে কমিটি বলেছে সারোগেসি (রেগুলেশন) বিলের আগেই অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজিস (রেগুলেশন) বিল (সংক্ষেপে এআরটি) পেশ করা হোক। দ্বিতীয় বিলটি এখনও মন্ত্রিসভায় পাশ হয়নি। তাঁরা মনে করেন দ্বিতীয় বিলটিতে শল্য চিকিৎসা সংক্রান্ত অনেক বেশি খুঁটিনাটি থাকার জন্যই তাঁরা এটি চাইছেন।
কমিটি চাইছে সারোগেসির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিতে উপযুক্ত বোর্ড তৈরি হোক যাদের কাছে এই ধরনের ক্লিনিক সংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে, সেই বোর্ডই নিয়ামকের কাজ করবে। এই সব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদের মেয়াদ হবে তিন বছর করে। এই পদে থাকবেন অত্যন্ত উঁচু পদে থাকা কোনও আধিকারিক।
তাঁরা চান এই বিলের ফলে যেন শুধু ভালই হয়, বিষয়টি যেন বাণিজ্যিক না হয়ে ওঠে।