দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন নিয়ে এবার গুরুগম্ভীর মন্তব্য করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন নিয়ে প্রতিবাদের সময় দাঙ্গা ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বন্ধ হোক।
বিক্ষোভের সময় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপরে পুলিশের হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি মঙ্গলবার, তবে এইরকম হিংসাত্মক পরিবেশের মধ্যে মামলার শুনানি হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের বেঞ্চ এ দিন জানিয়ে দেয়, “আমরা একটাই জিনিস চাই, তা হল হিংসা বন্ধ হোক... যদি প্রতিবাদ ও হিংসা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা চলতে থাকে তা হলে আমরা মামলাটি শুনব না।” এই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি বিআর গাভাই ও বিচারপতি সূর্য কান্ত। এদিন তাঁদের এজলাসে দুই কৌঁসুলি ইন্দিরা জয়সিং ও কলিন গঞ্জালভেস আবেদন করেন, ছাত্রদের উপরে পুলিশি হামলার ব্যাপারে যাতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করা হয়। তারই জবাবে বেঞ্চ এই মন্তব্য করে। বেঞ্চ বলে, “আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে এই হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে কিছু শুনব না। এ সব কি হচ্ছে? সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হচ্ছে, বাস পোড়ানো হচ্ছে।”
আইনজীবীরা যখন জোরাজুরি করতে শুরু করেন, তখন আদলত মন্তব্য করে, “আমাদের সামনে এইসব তর্জন-গর্জন করবেন না। এই হিংসা বন্ধ হওয়া উচিত।”
ইন্দিরা জয়সিং বলেন, ছাত্রদের উপরে যে হামলা হয়েছে, বিশেষ করে আলিগড়ে যা হয়েছে, সর্বোচ্চ আদালতের উচিত সে ব্যাপারে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়ো মোটু) হস্তক্ষেপ করা। তিনি আদালতে বলেন, ছাত্রদের উপরে নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে, অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের কয়েকজনের হাড় ভেঙেছে। তিনি বলেন, জেলা আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পরে এ ব্যাপারে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ করেছিল দিল্লি হাইকোর্ট এবং তারা এ ব্যাপারে নির্দেশও দিয়েছিল।
ইন্দিরা জয়সিং বলেন, “কেইউ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বন্ধ করতে পারে না। আমরা কোনও দাঙ্গা চাই না। এই ব্যাপারটা ছাত্রদের বিরুদ্ধে সংঘটিত করা হয়েছে।” গঞ্জালভেস জানান, তিনি রবিবারই হাসপাতালে যান এবং যে লকআপে জামিয়ার পড়ুয়াদের পুলিশ রেখেছে সেখানেও যান।

এসব কথা শোনার পরেও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, তাঁরা চাইছেন হিংসা বন্ধ হোক। বেঞ্চ জানায়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের দায়িত্ব।
গঞ্জালভেস উল্লেখ করেন জামিয়ার উপাচার্য কী বলেছেন সে কথা।
https://www.four.suk.1wp.in/you-are-not-alone-jamias-v-c-backs-her-students-after-violent-protests/তিনি বলেন, “আমরা চাই আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিটি তৈরি করা হোক।” বেঞ্চ জানায়, “আমরা সবই বিবেচনা করব, তবে সবার আগে শান্তি ফেরা দরকার।” তবে এ ব্যাপারে তাঁদের আবেদন করতে বলে আদালত জানায়, বিষয়টি তাঁরা মঙ্গলবার শুনবেন।