দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে, হৃদরোগের চিকিৎসায় একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি। চিকিৎসকরা একে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদ বলেই দেখেন। এই পদ্ধতিতে স্টেন্ট (stent) বসিয়ে প্রতি বছর সারা বিশ্বে কয়েক কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচান ডাক্তারবাবুরা। কিন্তু যে কোনও চিকিৎসা পদ্ধতির মতোই, এই অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিরও রিস্ক-বেনিফিট এই দুই ফ্যাক্টরই রয়েছে। অর্থাৎ প্রাণদায়ী এই পদ্ধতির ঝুঁকিও রয়েছে কিছু।
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এই ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম হল স্টেন্ট থ্রম্বোসিস। অর্থাৎ হার্টে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে স্টেন্ট বসানোর ফলে রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া ও তার ফলে মৃত্যু। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি পরবর্তী জটিলতায় যে সমস্ত রোগীর মৃত্যু হয়, তার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই স্টেন্ট থ্রম্বোসিসের শিকার।
আগে জেনে নেওয়া যাক, স্টেন্ট (stent) বসানো আসলে কী?
মানুষের হার্টে অসংখ্য রক্তনালী রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, কখনও বা অতিমাত্রায় অনিয়মের ফলে সেই সব নালীর ভিতরের গায়ে প্লাক জমতে শুরু করে। অর্থাৎ নালীর খানিকটা অংশ বন্ধ হয়ে যায়। একেই বলে ব্লকেজ। এই ব্লকেজের ফলে যখন রক্ত সঞ্চালন বাধা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তখনই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ব্লকেজ ধরা পড়লে, তার মাত্রা বুঝে চিকিৎসকরা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পরামর্শ দেন, যার মাধ্যমে রক্তনালীর মধ্যে জমা প্লাক সরিয়ে ওই অংশে বসানো হয় এক ধাতব টুকর, যাকে বলে স্টেন্ট। সাধারণত হার্টের গুরুত্বপূর্ণ শিরাগুলিতে ৭০ শতাংশ বা তারও বেশি ব্লক থাকলে এই স্টেন্ট বসান চিকিৎসকরা।
স্টেন্টের (stent) সুবিধা
স্টেন্ট বসানোর জন্য রোগীর দেহে তেমন কোনও কাটাছেঁড়া করতে হয় না। হাতের বা পায়ের শিরায় অর্থাৎ রেডিয়াল বা ফিমোরাল আর্টারি মধ্যে দিয়ে ছুঁচ ঢুকিয়ে তার মাধ্যমে ২ মিলিমিটার ব্যাসার্ধের ক্যানুলা প্রবেশ করানো হয়। এই ক্যানুলার মধ্যে দিয়েই সরু নল বা ক্যাথিটার নিয়ে যাওয়া হয় হার্টের পেশির রক্তবাহী নালিকা পর্যন্ত। সেই ক্যাথিটারের মধ্যে দিয়ে স্টেন্ট পাঠানো হয় সোজা ব্লকের জায়গায়। স্টেন্ট বসানো হয়ে গেলে ক্যাথিটার বের করে নেওয়া হয়। অর্থাৎ ক্ষত বলতে ওই দুই মিলিমিটার। রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পান মাত্র দু’দিনে।
বিকেলেও খেতে চেয়েছিলেন চপ-মুড়ি, কয়েক ঘণ্টা পরেই চিরঘুমে সুব্রত
স্টেন্টের বিপদ
হার্টে স্টেন্ট বসানোর পরে দু’ধরনের সমস্যা হতে পারে— স্টেন্ট থ্রম্বোসিস এবং রি-স্টেনোসিস। স্টেন্ট থ্রম্বোসিসের ক্ষেত্রে, হার্টে স্টেন্টের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধে। স্টেন্টিং-এর পরে সাধারণত এক বছরের মধ্যে এমন সমস্যা হতে পারে। আধুনিক গবেষণা বলছে, নতুন মেডিকেটেড স্টেন্ট-এর সমস্যা পুরনোদের থেকে অনেক কম। এখন ১০০ জনের স্টেন্ট বসালে তার মধ্যে তার মধ্যে ৩-৪ জনের এই সমস্যা হতে পারে।
সমীক্ষা বলছে
২০০৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল অবদি ১৮০০ রোগীর হার্টে বিশেষ স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। পরবর্তী ১০ বছরে ওই রোগীদের পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, যেসব ক্ষেত্রে সমস্যা শুধু হার্টের লেফ্ট মেন আর্টারির ব্লকেজ, তাহলে স্টেন্টের ফলাফলই সবচেয়ে ভাল। তবে যেখানে জটিলতা অনেক বেশি বা ব্লকেজ ধরা পড়েছে তিনটে ধমনীতেই, তখন এই স্টেন্টের চেয়ে বেশি কার্যকরী বাইপাস। তবে ২০০৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে যে সমস্ত স্টেন্ট ব্যবহার হয়েছিল, তার তুলনায় এখন আরও অন্যধরনের স্টেন্ট এসে গিয়েছে, যা আরও কমিয়েছে ঝুঁকি।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'