দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নামটাই বাংলার মানুষের কাছে আবেগের। শুধু বাংলা কেন, ভিন্ রাজ্য থেকে ক্রিকেটপ্রেমী জনতা এসে তাঁর বেহালা চৌরাস্তার ‘মা চণ্ডীভবন’ বাড়িটি একবার হলেও দেখে যাবেন। কিংবা ডগলাস গ্রাউন্ডে, যেখানে তিনি নিভৃতে, নীরবে প্র্যাকটিস করে তৈরি হয়েছিলেন গ্রেগকে জবাব দেওয়ার জন্য।
সেই কামব্যাক ম্যান যখন নিজেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, সেইসময় কমবেশি সকলেই অবাক হয়েছেন। সৌরভের মতো সুস্থ ফিট একজন ক্রীড়াবিদ কী করে হৃদরোগের মতো ব্যধিতে আক্রান্ত হতে পারেন, সে চিন্তায় জল্পনা ঘনিয়েছে বহু।
প্রত্যেকেই প্রিয় দাদার খবর নেওয়ার জন্য উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। কিন্তু আলিপুরের যে হাসপাতালে তিনি রয়েছেন, সেখানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না থাকলে প্রবেশই নিষেধ। দুম করে কেউ চলে গেলে তাঁকে ফিরে আসতে হবে।
অথচ সৌরভের মতো কিংবদন্তী, বাংলার আইকন যখন সেখানে রয়েছেন, সেইসময় তাঁর খবর নেওয়ার জন্য আকুলতা তো থাকবেই, আর সেটি ভীষণভাবেই রয়েছে। সকাল থেকে স্রেফ ‘কেমন আছেন মহারাজ...’ এই খবরটি নিতে অনেকেই হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন হাসপাতালে। শোনা যাচ্ছে, অনেকে নাকি রাতেও থাকছেন এই শীতের মধ্যেও।

সৌরভের বিপুল জনপ্রিয়তার কথা ভেবে, তাঁর সমর্থকদের চিন্তার অবসান ঘটাতে উডল্যান্ডস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোমবারই সৌরভের নামে একটি আলাদা লাউঞ্জ করেছে। ওই লাউঞ্জে কোনও সৌরভ-প্রেমী গিয়ে তাঁর সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারবেন। তিনি গেলেই তাঁকে জল, চা ও কফিও পরিবেশন করা হবে। শোনা গিয়েছে, সৌরভের কথাতেই এই পরিকল্পনা নিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সৌরভ যখন রয়েছেন, তাঁকে দেখতে এমনিতেই ভিআইপিদের ভিড়। এদিনও বিকেলের দিকে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন বোর্ড সচিব জয় শাহ ও কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধূমাল। বোর্ড সচিব তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ পুত্র জয় মঙ্গলবারও হাসপাতালে যাবেন। কেননা ডাঃ দেবী শেঠী তাঁর টিম নিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে সৌরভকে পরীক্ষা করতে আসবেন। নামী হৃদ বিশেষজ্ঞ কী পরামর্শ দেন, সেটি সামনে থেকে শুনবেন জয়, তারপর মহারাজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।