ভারতে টিকটক ফেরাতে আসরে জাপানি সংস্থা, দুই কোম্পানির সঙ্গে কথা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া টিকটক অ্যাপ আবার চালু হতে পারে। তবে চিনের কোনও সংস্থার মালিকানায় নয়। অতীতে শোনা গিয়েছিল, নিষিদ্ধ ওই অ্যাপের ভারতীয় মালিকানা কিনতে উদ্যোগী মুকেশ আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এখন শোনা যাচ্ছে
শেষ আপডেট: 3 September 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া টিকটক অ্যাপ আবার চালু হতে পারে। তবে চিনের কোনও সংস্থার মালিকানায় নয়। অতীতে শোনা গিয়েছিল, নিষিদ্ধ ওই অ্যাপের ভারতীয় মালিকানা কিনতে উদ্যোগী মুকেশ আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এখন শোনা যাচ্ছে, আরও একটি সংস্থা এই অ্যাপ কেনার জন্য কথাবার্তা চালাচ্ছে। টিকটকের মালিক সংস্থা বাইটড্যান্সের অংশীদার জাপানের সফটব্যাঙ্ক গ্রুপ এই চেষ্টা চালাচ্ছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই তারা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ছাড়াও ভারতী এয়ারটেলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বলো শোনা গিয়েছে।
আরও পড়ুন
তবে সফটব্যাঙ্কের প্রস্তাব নিয়ে কোন সংস্থা কী ভাবছে সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গেই চলছে আলোচনা। এমনটাও জানা গিয়েছে যে, সফটব্যাঙ্ক আরও কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত এই উদ্যোগ কতটা এগিয়েছে তা নিয়ে সফটব্যাঙ্ক, বাইটড্যান্স, রিলায়েন্স বা ভারতী এয়ারটেল মুখ খোলেনি।
পূর্ব লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় চিনা আগ্রাসনের পরে পরেই ভারতে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে টিকটক। জনপ্রিয় এই অ্যাপই শুধু নয়, দেশের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেই সময়ে মোট ৫৯টি চিনা অ্যাপ ব্লক করা হয় ভারতে। কেন্দ্রীয় সরকার টিকটক, ইউসি ব্রাউজারের মতো ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার সময়ে বলে এই অ্যাপগুলি ভারতের সার্বভৌমত্ব, সংহতি, প্রতিরক্ষা, দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা জারির পরে টিকটকের মালিক সংস্থা বাইটড্যান্সের পক্ষে দাবি করা হয়, তারা তথ্য সংক্রান্ত গোপনীয়তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত ভারতীয় আইন মেনে চলে। এটাও জানানো হয় যে, ভারতের কোনও গ্রাহকের কোনও তথ্যই তারা চিন কিংবা অন্য কোনও বিদেশি সরকারকে দেয় না। যদিও সেই দাবিকে আমল দেয়নি নয়াদিল্লি। সম্প্রতি একই অভিযোগে, পাবজি-সহ ১১৮টি চিনা অ্যাপও নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভারত সরকারের তরফে।
জুন মাসে নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ভারতে খুবই জনপ্রিয় অ্যাপ টিকটক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ কোটি। ভারতে সংস্থার কর্মী সংখ্যাও প্রায় ২ হাজার। ভারত সরকার নতুন করে বাইটড্যান্সকে যে ওই অ্যাপ চালানোর অনুমতি দেবে না সেটা বোঝার পরেই এই দেশের ব্যবসা বিক্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়। ভারতের পর পর আমেরিকাও ছোট ভিডিও তোলার প্লাটফর্ম টিকটক নিষিদ্ধ করে। টিকটক অ্যাপ সংস্থার সঙ্গে সবরকম আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে আবার এমনটা শোনা যাচ্ছে যে, মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেল্লা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, টিকটকের মার্কিন পরিচালনার ভার নিতে চায় মাইক্রোসফট।
জাপানের সফটব্যাঙ্ক অবশ্য আগে থেকেই টিকটকের অংশীদার। খুব বেশি না হলেও টিকটকের ব্যবসায় অংশীদারিত্ব রয়েছে তাদের। জাপানের এই সংস্থা ভারতেও আগে অনেক বিনিয়োগ করেছে। ভারতে স্ন্যাপডিল, ওলা ক্যাব এবং হোটেল বুকিং সংস্থা ওয়ো রুমসে বিনিয়োগ রয়েছে সফটব্যাঙ্কের। গত ডিসেম্বরেই লেন্সকার্টে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে সফটব্যাঙ্ক।