দোলা বলেন, "নির্বাচন কমিশন নির্যাতন কমিশনে পরিণত হয়েছে। তবে আইনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আশা রাখি, আইনি পথেই এর সুবিচার মিলবে।"
.jpeg.webp)
দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ
শেষ আপডেট: 20 January 2026 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে এসআইআর (SIR) ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল। সব রাজ্যে এক নিয়ম হলে বাংলার (West Bengal) ক্ষেত্রে আলাদা ফরমান কেন, এই প্রশ্নকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) উপর চাপ বাড়াতে এ বার রাস্তায় নামল তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ গণ সংগঠনগুলি (Trinamool mass organization on the road)। নেতৃত্বে তৃণমূলের ট্রেড ইউনিয়নের সর্বভারতীয় নেত্রী দোলা সেন (Dola Sen) ও রাজ্যের মন্ত্রী তথা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (Siddiqulla Chowdhury)।
মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে প্রায় ২৫ মিনিটের বৈঠক করেন সিদ্দিকুল্লা-সহ প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিদ্দিকুল্লার অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কমিশনের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করতে এদিন প্রেসক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে দেশ বাঁচাও গণ মঞ্চ। যে মঞ্চের নেতৃত্বে রয়েছেন দোলা। শাসকদলের এই পদক্ষেপকে এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের উপর সংগঠিত চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
সিদ্দিকুল্লা বলেন, এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্কে রাজ্যে ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিএলও-দের উপরেও মানসিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে। কারণ ছাড়াই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ‘হুমকি-সংস্কৃতি’ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিও জানান তিনি।
দোলা বলেন, "নির্বাচন কমিশন নির্যাতন কমিশনে পরিণত হয়েছে। তবে আইনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আশা রাখি, আইনি পথেই এর সুবিচার মিলবে।"

এসআইআর ঘিরে বিতর্ক এর আগেই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি সংক্রান্ত মামলায় সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ওই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই রায়ের পরেই বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “কোর্টে হারালাম, এবার ভোটে হারাব।”
দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের অন্যতম নেতা রঞ্জিৎ বাইন অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়েই এখন সন্দেহ দানা বাঁধছে। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান স্বীকৃত ভোটাধিকার রক্ষা নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। আধার কার্ড-সহ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের স্বীকৃত পরিচয়পত্র মান্য না করা, এমনকি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবে অগ্রাহ্য করার সিদ্ধান্তকেও ‘অযৌক্তিক’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক চিঠির উত্তর না দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয় কমিশনের বিরুদ্ধে।
তৃণমূলের প্রশ্ন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাংলার জন্য এক নিয়ম, আর অন্য রাজ্যের জন্য আর এক নিয়ম কেন? এই বৈষম্য থেকেই কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে বলে দাবি শাসক শিবিরের। কমিশন অবস্থান না বদলালে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
যদিও বিরোধী বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, ভোটার তালিকার অনিয়ম প্রকাশ্যে আসছে বলেই ভয় পেয়েছে তৃণমূল। কমিশনের উপর চাপ তৈরির জন্যই তাদের গণ সংগঠনকে পথে নামানো হয়েছে বলে দাবি বিজেপির। রাজ্য নেতা তাপস রায়ের কথায়, “বাকি রাজ্যে এসআইআর নিয়ে কোনও সমস্যা নেই, শুধু বাংলাতেই কেন গোলমাল?” এসআইআর সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলায় ভোট না করার দাবিও কমিশনের কাছে জানিয়েছে পদ্ম শিবির।
সব মিলিয়ে এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক তরজা দিনে দিনে তীব্রতর হচ্ছে। এর পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সে দিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।