
শেষ আপডেট: 13 June 2022 04:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে (Presidential Election) এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারকে (Sharad Pawar) বিরোধী শিবিরের সর্বসম্মত প্রার্থী করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে আগামী পরশু দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ডাকা বৈঠকে পাওয়ারের নামে সিলমোহর দেওয়ার চেষ্টা হবে। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রের এই নেতার নামে সহমত হয়েছেন বিরোধী নেতাদের অনেকেই।
বরং কোন দল প্রথম পাওয়ারের নাম প্রস্তাব করল তা নিয়েও খানিক দাবি উত্থাপনের পালা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস দাবি করেছে, এনসিপি সুপ্রিমোর নাম নিয়ে তারাই প্রথম আলোচনা শুরু করেছে। সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) নির্দেশে সপ্তাহ খানেক ধরে প্রবীণ নেতা মল্লিকর্জুন খাড়গে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। তিনি প্রথমেই পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করে সনিয়া গান্ধীর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। এরপর শিবসেনা নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে কথা বলেছেন। উদ্ধর এক কথায় সায় দিয়েছেন পাওয়ারের নামে।
এনসিপি নেতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সম্পর্ক খুবই মধুর। বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে মহারাষ্ট্রের এই প্রবীণ নেতাকে প্রথম থেকেই সামনের সারিতে রেখেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তবে কংগ্রেসের প্রস্তাব, অর্থাৎ পাওয়ারের নাম নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর মত এখনও জানা যায়নি। বস্তুত, কংগ্রেসও এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়ারের নাম জানায়নি। এনসিপি ও শিবসেনার নেতারা একান্তে জানিয়েছেন কংগ্রেসের প্রস্তাবের কথা। স্বয়ং পাওয়ার এই ব্যাপারে কথা দেননি। তিনি দিন কয়েক সময় চেয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, বাকি বিরোধী দলগুলির মনোভাব নিজের মতো করে বুঝে নিতে চান তিনি। কারণ, এই বয়সে তাঁর নামে শেষ পর্যন্ত বিরোধীরা সর্বসম্মত না হলে তাঁর নিজের এবং দলেরও ক্ষতি।
তাৎপর্যপূ্ণ হল, পাওয়ারের সঙ্গে বিজেপির, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্কও খুব ভাল। মোদী বিরোধী শিবিরের এই নেতাকে প্রায়ই সময় দিয়ে থাকেন।। একান্তে কথা হয় দুজনের।
এই মুহূর্তে রাজনীতিতে পাওয়ার অনেকটা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো। প্রণববাবুর মতো কম-বেশি সব দলের সঙ্গেই পাওয়ারের সম্পর্ক ভাল। তাঁর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট ওজনদার। মহারাষ্ট্রের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী পাওয়ার কেন্দ্রে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলেছেন। ফলে পাওয়ার রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী হলে প্রণববাবুর মতো তাঁরও এনডিএ শরিক দলের সমর্থন পেয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। যেমন, প্রণববাবুকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছিল নীতীশ কুমারের পার্টি জনতা দল ইউনাইটেড।
বরং, পাওয়ারের নাম কংগ্রেস শিবির থেকে আসায় অনেকেই বিস্মিত। অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদবানিদের বিজেপি যখন সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বিদেশিনী ইস্যুতে সরব, তখন ওই বিষয়কে হাতিয়ার করে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে নিজের জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দল গঠন করেছিলেন মহারাষ্ট্রের এই নেতা। সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে অবশ্য আরও আগে থেকেই বিরোধ ছিল পাওয়ারের। ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতি পদে পাওয়ারের বসা হয়নি সনিয়ার আপত্তিতেই। রাজনৈতিক আত্মকথায় সেই পর্বের উল্লখ করেছেন পাওয়ার।
কিন্তু সনিয়া এতদিন পর সেই বিবাদ ভুলে পাওয়ারকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করতে চাইছেন। কারণ তিনি জানেন, কংগ্রেসের ঘরের লোককে তৃণমূল সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল মানবে না। তারা আবার পাওয়ারের নামে সায় দেবে। তাই কংগ্রেস আগে থেকেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতির পয়লা নম্বর মুখকেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে নাম প্রস্তাব করে রাখল বলে মনে করা হচ্ছে।
মাদক কাণ্ডে গ্রেফতার শক্তি কাপুরের ছেলে! বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বলিউডের