করোনা টিকায় জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, এশিয়ার সেরা ছয়ে সেরাম কর্তা আদর পুনাওয়ালা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়ার সেরা ছ’জন ব্যক্তিত্বের মধ্যে জায়গা করে নিলেন ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার আদর পুনাওয়ালা। সিঙ্গাপুরের একটি দৈনিকে জনপ্রিয়তার নিরিখে এশিয়ার সেরা ব্যক্তিত্ব তথা ‘এশিয়ানস অব দ্য ইয়ার’-এর তালিকা প্রকাশ
শেষ আপডেট: 4 December 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়ার সেরা ছ’জন ব্যক্তিত্বের মধ্যে জায়গা করে নিলেন ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার আদর পুনাওয়ালা। সিঙ্গাপুরের একটি দৈনিকে জনপ্রিয়তার নিরিখে এশিয়ার সেরা ব্যক্তিত্ব তথা ‘এশিয়ানস অব দ্য ইয়ার’-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতি বছরই এই তালিকা সামনে আনা হয়। এ বছর করোনা কালে জনপ্রিয়তা শুধু নয়, অতিমহারারী ঠেকাতে অগ্রনী ভূমিকা নিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে সামনের সারিতেই নাম রয়েছে পুনাওয়ালার।
এশিয়ার সেরা পাঁচে প্রথমে আছেন চিনের গবেষক ঝ্যাং ইয়ংঝেন। তিনি ও তাঁর টিম প্রথম সার্স-কভ-২ ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স অর্থাৎ জিনের গঠন বিন্যাস সামনে এনেছিলেন। দ্বিতীয়ে চিনের মেজর জেনারেল চেন ওয়েই। তৃতীয় ও চতুর্থে যথাক্রমে জাপানের ডাক্তার রুইচি মোরিশিতা এবং সিঙ্গাপুরের গবেষক ওই এং ইয়ং। করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে অগ্রনী ভূমিকা আছে এঁদের। পাঁচ নম্বরে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ী সেও জুং-জিন। করোনা চিকিৎসার যাবতীয় ওষুধপত্র সারা বিশ্বে পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে সেও-র সংস্থা।
ভারতের বৃহত্তম শুধু নয় বিশ্বের অন্যতম বড় ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট। আন্তর্জাতিক বাজারে সেরামের তৈরি ভ্যাকসিনের চাহিদা বিশাল। করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পরে তার প্রতিষেধক তৈরিতে প্রথম কার্যকরী ভূমিকা নেয় ব্রিটেনের ঐতিহ্যশালী অক্সফোর্ড ইউিনিভার্সিটি। অক্সফোর্ডের টিকা তৈরি হওয়ার সময় থেকেই তাদের সঙ্গে চুক্তি করে সেই ফর্মুলাতেই ভারতে প্রথম কোভিশিল্ড টিকা তৈরি করতে শুরু করে দেয় সেরাম। ভ্যাকসিন গবেষণা ও তার ট্রায়ালের যথাযথ পদক্ষেপ মেনেই এতদিন এগিয়েছে সেরাম। কোভিশিল্ড টিকাতে তাই মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতাও বেড়েছে। আর সেই সঙ্গেই সেরাম সিইও আদর পুনাওয়ালার জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ভারতে তৈরি করোনার টিকাগুলির মধ্যে এখনও এগিয়ে সেরামই।

১৯৬৬ সালে সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠা করেন আদরের বাবা সাইরাস পুনাওয়ালা। ২০০১ সালে সেরামের চিফ একজিকিউটিভ পদে যোগ দেন আদর। যে কোনও সংক্রামক রোগের ভ্যাকসিনই তৈরি হয় সেরামে। প্রতি বছর ১০০ কোটিরও বেশি ডোজ তৈরি হয়। টিকার ডোজ উৎপাদনের নিরিখে এখনও অবধি সেরামই বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুয়ের ভ্যাকসিন তৈরি করে জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠে সেরাম। তাছাড়া যক্ষ্মা রোগের ভ্যাকসিন টিউবারভ্যাক (বিসিজি), পোলিওমায়েলিটিসের পোলিওভ্যাক ভ্যাকসিনও সেরামেরই তৈরি। ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস মেডিক্যাল স্কুলের যৌথ উদ্যোগে রেবিসের প্রতিষেধক ‘রেবিস হিউম্যান মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ বা রেবিশিল্ড তৈরি করে সেরাম।
আদর বলেছেন, করোনার টিকা কোভিশিল্ড শুধুমাত্র ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গরিব ও পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে এই টিকার বিতরণ করা হবে। প্রতি বছর ১০০ কোটিরও বেশি কোভিশিল্ড টিকার ডোজ তৈরির প্রস্তুতি হয়ে গেছে। এখনই চার কোটি টিকার ডোজ তৈরি হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে আসার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।