
শেষ আপডেট: 9 October 2023 08:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: এতদিন তাঁর দাপট একাধিক বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর আচরণে অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু রবিবার যা ঘটল তা, কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না। বিশ্বভারতী চত্বরে টোটো ভারী গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হাত জড়ো করে রাস্তায় নেমে সকলকে অনুরোধ করতে দেখা গেল উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে। বিদ্যুৎবাবুর বদলে অনেকেই বেশ তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন।
এবিষয়ে তিনি বলেন, 'আপনাদের শহর বিশ্বের কাছে সমাদৃত হয়েছে। আমি আর কদিন আছি, বিশ্বভারতীকে আপনারাই বাঁচান।' উপাচার্যের এই আচারণগত পরিবর্তন দেখে অনেকেই বলছেন, 'মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই উপাচার্যের মতি ফিরেছে।'
কয়েকদিন আগেই শান্তিনিকেতন থেকে শ্রীনিকেতনের সংযোগকারী প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা ফেরত চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও চিঠি দেন। এমনকী সেই চিঠির একটি প্রতিলিপি কেন্দ্রীয় শিক্ষমন্ত্রী ও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছে পাঠান।
শনিবার টোটো ও ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কর্তৃপক্ষ। রবিবার সেই রাস্তায় যানবাহন মুক্ত করতে উপাচার্যকে আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। সেখানে বিদ্যুৎবাবু বলেন, 'বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কোনদিনই পায়ে হেঁটে চলা এবং টোটো যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি।'
তিনি আরও বলেন, 'গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো শান্তিনিকেতনকে 'বিশ্ব হেরিটেজ'এর তকমা দিয়েছে। আমাদের সবাইকেই এই তকমা ধরে রাখতে হবে। আশ্রমের রাস্তার দু ধারে একাধিক ঐতিহ্যবাহী ভবন, ভাস্কর্য রয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল করলে মাটি কাঁপায় এগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এই উৎপাত বন্ধ করতেই রাস্তা ফেরানোর আবেদন করেছে বিশ্বভারতী। আমরা কারও ক্ষতি করতে চাই না।'