
মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা।
শেষ আপডেট: 4 August 2024 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক বছর জেলে থাকার পর গত ১৪ মে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। আগামী সোমবার ফের তাঁকে হাজিরার জন্য তলব করেছে ইডি।
সূত্রের খবর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চেয়ে বিধায়ককে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিধায়ক সোমবার হাজিরা দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এব্যাপারে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে ইডির সমন সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, "এক বছর ধরে তো আর এক কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই বিধায়ককে জেলে আটকে রাখল। ততদিনে কোনও জেরা করতে পারল না, এখন আবার অন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তলব করছে। এর থেকেই তো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তদন্তের নামে তৃণমূল বিধায়ক, নেতা, মন্ত্রীদের হয়রানি করতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আসলে শীর্ষ আদালত জামিন মঞ্জুর করেছে, সেটা বিজেপির হজম হচ্ছে না। তাই এবার ইডিকে দিয়ে নোটিস পাঠিয়েছে।"
পাল্টা হিসেবে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা অন্যতম মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "জামিনে মুক্ত হওয়া মানেই অভিযোগ মুক্ত হওয়া নয়। অভিযোগ থাকলে তো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্তের জন্য ডাকবেই। এর মধ্যে তৃণমূল রাজনীতি খুজছে, কারণ ওরা ভয় পাচ্ছে। ওরাও জানে বাংলায় চাকরি বিক্রি হয়েছে টাকার বিনিময়ে।"
নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গত বছর ১৭ এপ্রিল জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি অভিযানের মাঝেই নিজের দামি দুটি অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল সেট পুকুরে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। তথ্য লোপাটের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজত ঘুরে তখন থেকেই জেলবন্দি ছিলেন বিধায়ক।
জীবনকৃষ্ণের ফোন থেকে নিয়োগ মামলার একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে সিবিআই। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা পড়েছে আদালতে। চার্জশিট জমা পড়ার পরও কেন জেলবন্দি করে রাখা হবে, এই প্রশ্ন তুলে গত বছর পুজোর আগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল বিধায়ক। অবশেষে গত ১৪ জুন শীর্ষ আদালতে জীবনকৃষ্ণ সাহা জামিন পেয়েছেন।
যে যে শর্তে জীবনকৃষ্ণের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে তা হল অভিযুক্তকে দুই কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা বন্ড দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ ছাড়া রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না বিধায়ক। জমিন পাওয়ার পর তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। প্রত্যেক শুনানিতে জীবনকৃষ্ণকে উপস্থিত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে কোনও হুমকি দেওয়া যাবে না। কোনও রকম প্রমাণ লোপাট করতে পারবেন না তৃণমূল বিধায়ক। এছাড়াও তাঁর পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।