দ্য ওয়াল ব্যুরো : বহু কোটি টাকার আইএমএ কেলেঙ্কারিতে অভিযোগ ছিল কংগ্রেস বিধায়ক রোশন বেগের বিরুদ্ধে। দু'মাস আগেই তিনি সাসপেন্ড হয়েছেন। কিছুদিন আগে বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। সোমবার বেঙ্গালুরু বিমান বন্দর থেকে পুলিশ আটক করল তাঁকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির এক বিধায়ক ও বিজেপির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পার সহকারী। তিনি পুলিশ দেখেই দৌড়ে পালিয়ে যান।
মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী টুইটারে বলেছেন, আইএমএ কেলেঙ্কারির তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম (সিট) গঠন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কুমারস্বামী যে চ্যাটার্ড প্লেনে বেঙ্গালুরু এয়ারপোর্ট থেকে উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির এক বিধায়ক। তা থেকে প্রমাণিত হয়, বিজেপিই তাঁর সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
https://twitter.com/hd_kumaraswamy/status/1150954551689695232
কুমারস্বামী লিখেছেন, আইএমএ কেলেঙ্কারিতে যে সিট তদন্ত করছে, তারা সোমবার রোশন বেগকে আটক করেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি যে চ্যাটার্ড প্লেনে বেঙ্গালুরু ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইয়েদুরাপ্পার পিএ সন্তোষ। সিট আমাকে জানিয়েছে, তাদের দেখেই সন্তোষ দৌড়ে পালিয়ে যান। তখনও বিজেপির এমএলএ যোগেশ্বর সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রোশন বেগের বিরুদ্ধে আইএমএ কেলেঙ্কারিতে গুরুতর অভিযোগ আছে। লজ্জার কথা হল, বিজেপি তাঁকে পালাতে সাহায্য করছিল। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, বিধায়ক কেনাবেচা করে বিজেপি সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়।
https://twitter.com/hd_kumaraswamy/status/1150832405478928387
বিজেপি ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যে খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন।
https://twitter.com/BJP4Karnataka/status/1150841662517608448
গত দু'সপ্তাহে কর্ণাটকে শাসক কংগ্রেস-জেডি এস জোটের ১৬ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে রেজিগনেশন লেটার পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে দুই নির্দল বিধায়কও সরকারের থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছেন। ফলে বিপদে পড়েছে সরকার। ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে বিধায়করা উড়ে গিয়েছেন মুম্বইয়ে। সেখানে পাঁচতারা রেনেসাঁস হোটেলে রয়েছেন তাঁরা। তাঁদের রেজিগনেশন গ্রহণ করেননি স্পিকার কে রমেশ কুমার।
১০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ করেছেন, স্পিকার ইচ্ছা করে তাঁদের ইস্তফা নিচ্ছেন না। কংগ্রেস-জেডি এস জোট যাতে ক্ষমতায় থাকতে পারে সেজন্যই তিনি ইস্তফাপত্রগুলি গ্রহণ করতে গড়িমসি করছেন। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, স্পিকার মঙ্গলবারের আগে যেন কোনও সিদ্ধান্ত না নেন।