
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 25 December 2024 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বান্দোয়ানের রাইকা পাহাড়ে 'সহাবস্থানে'র ছবিটা ক্রমশঃ বদলে যাচ্ছে।
বাঘিনি জিনাতকে রক্ষার ব্যাপারে সোমবার রাতেও গ্রামবাসীরা বনকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, 'এই জঙ্গলে যতটা আমাদের অধিকার, ততটা তো ওরও (বাঘিনির)।
বুধবার সকালে সেই গ্রামবাসীরাই চোয়াল শক্ত করে বনকর্তাদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, "আগে নিজের প্রাণ না বন্যপ্রাণ? আপনারা তো এত লোক লস্কর এনেও বাঘিনিকে ধরতে পারলেন না। এবার আমাদের ওপর ছেড়ে দিন!'
যা শুনে বনকর্তাদের স্মৃতিতে ভেসে উঠছে ২০১৮ সালের এপ্রিলে লালগড়ের ঘটনা! সেবারে বাঘ ধরতে কার্যত ল্যাজেগোবরে হাল হয়েছিল বনদফতরের। বাঘ ধরতে পারেননি তাঁরা। পরে ১৩ এপ্রিল লালগড়ের বাঘঘোরার জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছিল বাঘের ক্ষতবিক্ষত দেহ। দেহে ছিল গ্রামবাসীদের বল্লমের খোঁচার দাগ। লালগড়ের ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি পুরুলিয়াতেও হবে না তো? ভাবাচ্ছে বনকর্তাদের।
হঠাৎ করে গ্রামবাসীদের 'মুড' বদলে গেল কেন?
এক বনকর্তার কথায়, "এরা ছাগলগুলোকে সন্তানের মতো করে লালন পালন করে। মঙ্গলবার বিকেলে সেরকমই তিনটি ছাগলকে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের পর থেকেই ওদের চোখ, মুখের চেহারা বদলাতে শুরু করেছিল। সেই ক্ষোভেরই বর্হিপ্রকাশ ঘটেছে বুধবার সকালে।"
ওই বনকর্তার কথায়, "আপাতত গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে শান্ত করা গেছে। কিন্তু বুধবারও যদি বাঘিনির খোঁজ না মেলে, পরিবর্তে আবারও যদি ছাগলের দেহ উদ্ধার হয়, তাহলে পরিস্থিতি কী হবে বলা মুশকিল।"
একরাশ ক্ষোভ উগড়ে গ্রামবাসী শুভরাম মুর্মু, মঙ্গলা টুডু ও রমণী টুডুরা বলেন, "চোখের সামনে এভাবে সন্তানসম পোষ্যকে মেরে দিলে কতদিন আর শান্ত থাকব? বন্যপ্রাণ বাঁচাতে গিয়ে তো নিজেদের জীবনটাই চলে যাবে!" অগত্যা, বাঁশ, লাঠি, বল্লম নিয়ে বাঘিনির খোঁজে নতুন করে জঙ্গল পাহারায় নেমেছেন গ্রামবাসীরা। রয়েছে বন দফতরের ১৫টি টিমও। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে স্থানীয় থানা থেকে প্রচুর সংখ্যক পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের তাডোবা-আন্ধারি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পে (টাইগার রিজ়ার্ভ, সংক্ষেপে বা এসটিআর) আনা হয়েছিল জিনাতকে। ২৪ নভেম্বর রেডিয়ো কলার পরিয়ে তাকে সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। তার পরেই ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ঘুরে বাংলায় ঢুকে পড়েছে সে! গত শুক্রবার থেকে প্রথমে ঝাড়গ্রামে পরে পুরুলিয়ায় ঘাঁটি গেড়েছে জিনত। রেডিয়ো কলারের দৌলতে বাঘিনির অবস্থান জানতে পারলেও পাঁচদিন পরেও তাঁকে নাগালে আনতে না পেরে কার্যত বিব্রত বনকর্তারা।