দ্য ওয়াল ব্যুরো : আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখলের পরে সেখানকার মহিলাদের নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় আফগান মহিলাদের প্রতি সংহতি জানাতে দিল্লির যন্তর মন্তরে উপস্থিত হলেন কয়েকশ মহিলা। তাঁদের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, 'সেভ আফগান উওমেন'। এক বিক্ষোভকারী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "আফগান মহিলারা বিপদে পড়েছেন। তাঁদের হয়ে বলার জন্য আমি এখানে এসেছি।" তাঁর মতে, তালিবান নরমপন্থী মনোভাব নিয়ে চলবে বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা মিথ্যা। সেদেশে মহিলাদের বাড়ির বাইরে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। অনেককে যৌনদাসী করে রাখা হয়েছে। আফগানিস্তানে এখন সবচেয়ে সংকটে আছে মহিলা ও শিশুরা।
নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, আফগানিস্তানে মহিলাদের ওপরে আগের মতোই অত্যাচার চালাচ্ছে তালিবান। গত শুক্রবার নাজলা আয়োবি নামে এক দেশত্যাগী আফগান আইনজীবী স্কাই নিউজকে জানান, আফগানিস্তানের অনেক মহিলার সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের প্রতি তালিবানের দুর্ব্যবহার, নির্যাতনের অজস্র কাহিনি জেনেছেন। উত্তর আফগানিস্তানে গত কয়েক সপ্তাহে মেয়েদের কফিনে পুরে যৌন ক্রীতদাসী হিসাবে ব্যবহারের জন্য পড়শি দেশগুলিতে পাচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাজলা। তালিবানের রোষ থেকে বাঁচতে তিনি নিজেই দেশ ছেড়ে আমেরিকায় পালিয়ে গিয়েছেন। নাজলা এমন খবরও পেয়েছেন যে, তালিবান জোর করে লোকের বাড়ি বাড়ি ঢুকে খাবার জোগাড় করছে, বলছে, রান্না করে দিতে হবে। এমনই এক বাড়িতে তালিবান জঙ্গিদের জন্য রান্না করা খাবার খেতে বাজে হয়েছে বলে এক মহিলাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাজলা এও বলেছেন, ওরা ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়ে থাকলে তালিবান সদস্যদের সঙ্গে বিয়ে দিতে বাধ্য করছে। এমন নির্যাতনের মধ্যে তালিবান যে মেয়েদের কাজ করতে দেবে, এমন প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে কী করে, বুঝতে পারছি না।
নাজলা বর্তমানে মহিলাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার প্রচার, অভিযানে তৈরি একটি সংগঠনের প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, তালিবান জমানায় জীবন ছিল একটা দুঃস্বপ্ন। মহিলাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতেই তালিবানি শাসন থেকে পালাতে হয় তাঁকে।
গত রবিবার সকালে কাবুল থেকে ১৬৮ জন যাত্রী নিয়ে দিল্লি পৌঁছেছে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের একটি বিমান। আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা এক মহিলা জানিয়েছেন, নিজের মেয়ে আর দুই নাতনিকে নিয়ে তিনি দেশ ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ তাঁদের যে বাড়ি ছিল আফগান মুলুকে তালিবান তা জ্বালিয়ে দিয়েছে।
ভারতে এসে আফগান মহিলা বলেছেন, আমাদের দেশের অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। আমাদের ভারতীয় ভাইবোনেরা সাহায্য করেছেন। তালিবান আমাদের ঘরবাড়ি সব জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমাদের উদ্ধার করার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ।