দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশে লকডাউনের মধ্যেও থেমে নেই চাষের কাজ। খারিফ শস্য রোপণের জন্য মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রক জানিয়েছে, এবার গত বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি জমিতে ধান চাষ হবে। মোট যত জমিতে ধান চাষ হবে, তার পরিমাণ ৩২ লক্ষ ৫৮ হাজার হেক্টর।
বর্ষা যত এগিয়ে আসবে, তত জোর কদমে শুরু হবে ফসল রোপণের কাজ। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে খারিফ শস্য রোপণ করা হবে।
খারিফ শস্যের মধ্যে প্রধান হল ধান। পশ্চিমবঙ্গে ১১.২৫ লক্ষ হেক্টর, তেলঙ্গানায় ৭.৪৫ লক্ষ হেক্টর, ওড়িশায় ৩.১৩ লক্ষ হেক্টর, অসমে ২.৭৩ লক্ষ হেক্টর, কর্নাটকে ১.৬৪ লক্ষ হেক্টর ও ছত্তিসগড়ে ১.৫০ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হবে।
চলতি বছরে ডাল চাষের এলাকা বাড়ছে ৩.৯৭ লক্ষ হেক্টর। তৈলবীজ চাষ হবে ৬.৬৬ লক্ষ হেক্টর জমিতে।
সরকার থেকে কৃষকদের বলা হয়েছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। ব্যবহার করুন মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এর পাশাপাশি আগামী ১৬ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে একটি বৈঠক করবে কৃষিমন্ত্রক। কোভিড ১৯ সংকটে কৃষকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সেই বৈঠকে আলোচনা করা হবে।
শুক্রবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ছ'হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছুঁইছুঁই। এই পরিস্থিতিতে অনেকেরই আশঙ্কা, তাহলে কি স্টেজ থ্রি অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণের পর্যায়ে ঢুকে পড়েছে ভারত? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, ভারত এখনও গোষ্ঠী সংক্রমণের পর্যায়ে যায়নি। বরং কোভিড-১৯ সংক্রমণ এখনও নির্দিষ্ট কয়েকটি গণ্ডিতে আটকে আছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে আগেই বলা হয়েছে, ভারতে এখনও স্টেজ থ্রি শুরু হয়নি। অনেকের বক্তব্য, লকডাউনের জন্যই সংক্রমণ এখনও গোষ্ঠীগত ভাবে ছড়ায়নি। কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের সেই বক্তব্যকেই সিলমোহর দিল হু।
গত দু-তিনদিন ধরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রুটিন সাংবাদিক বৈঠকে রোজই প্রায় যুগ্ম স্বাস্থ্যসচিব লব আগরওয়ালকে গোষ্ঠী সংক্রমণের ব্যাপারে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, "আমাদের দেশ এখনও গোষ্ঠী সংক্রমণের পর্যায়ে যায়নি। যখন ২০-৩০ শতাংশ ঘটনায় সংক্রমণের উৎস জানা যাবে না তখনই সেটাকে গোষ্ঠী সংক্রমণ বলা হয়।" তিনি আরও বলেন, "ভারতে সেই পর্যায় শুরু হলে সরকার তা গোপন করবে না।" দু'দিন আগেই জেলাওয়াড়ি পরিসংখ্যান দিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছিল, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি জেলায় এখনও করোনা থাবা বসাতে পারেনি।