দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘অবৈধ সম্পর্ক’, তাই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে তাকে। এমনিতে কোনও উৎপাত নেই তার। সারাদিনে দুধ, বিস্কুট, ডিমে পেট ভরে যায়। কোনও অসুস্থতা নেই। পাঁচ দিনে একবার স্নান করে সে, আর মাঝে মধ্যে গলা শোনা যায় তার। এ সবে কোনও সমস্যা ছিল না একেবারেই। তবে যে পড়শির সাথে মুখ দেখাদেখি নেই, তার বাড়ির সদস্যের সাথে প্রেম করতে গিয়েই সমস্যা বাড়ল এই তরুণীর। তিন বছরের পমেরেনিয়ান, তরুণীই তো বটে।
দক্ষিণ ভারতের কেরলের তিরুবন্তপুরমের চকাই এলাকার বাজারের কাছে এই পমেরেনিয়ানটিকে উদ্ধার করেন শমিন। শমিন পিপল ফর অ্যানিম্যাল নামক একটি সংস্থায় কাজ করেন। সেই সংস্থায় পথচলতি এক ব্যক্তি খবর দেওয়ার পরে শমিন সেখানে গিয়ে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। শমিন বলেন, তিনি প্রথম থেকেই খুব অবাক ছিলেন। কারণ সাধারণত কোনও কুকুর অসুস্থ থাকলে বা অন্য কোনও জটিলতা থাকলে অনেক সময়ে তার প্রভু বা মালিক তাকে পথে ঘাটে ছেড়ে দিয়ে যায়। কিন্তু এখানে তো তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না , তাহলে সমস্যাটা কোথায়!
পমেরেনিয়ানটির গলায় একটি চিরকুট বাধা ছিল। তাতে তার মালিক লিখেছেন, “ছোট্ট থেকে ওকে খুবই যত্ন করে বড় করা হয়েছে। এমনি কোনও রোগ ভোগ নেই। যথেষ্ট ট্রেনড, খাবারের বিশেষ ঝামেলা নেই। দুধ বিস্কুট ডিমেই চাহিদা মেটে। বিশেষ একটা চেঁচামেচি করে না, অচেনা লোক না হলে। আর পাঁচ দিনে একবার স্নান করাতে হয়। কিন্তু সে ‘অবৈধ সম্পর্ক’-এ জড়িয়ে পড়েছে। তাই তাকে আর বাড়িতে রাখা সম্ভব নয়। ছোট থেকে তাকে সবকিছু দেওয়ার পরেও তার কোনও মূল্যবোধ তৈরি হয়নি, এই অপরাধে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হল। ”

শমিন বলছেন, “তিন বছরের কুকুরটি খুবই স্বাভাবিক আছে। সে হয় তো এখনও তার মালিকের অপেক্ষায় আছে। তার সাথে তার প্রভু এমন ব্যবহার কেন করেছে, তা তো সে বুঝতেও পারছে না। ” তিনি বলছেন, “যেভাবে যে কোনও প্রাণীরই খিদে পায়, ঘুম পায়, স্নান এবং শৌচকর্ম করতে হয়, সেভাবে কুকুরেরও এই জৈবিক চাহিদাগুলো কাজ করে। যৌন চাহিদাও তার কাজ করে বাকি সব প্রাণীদের মতোই। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কুকুরটির মালিক চাইলে তাকে স্টেরিলাইজ করিয়ে আনতে পারত। কিন্তু তা না করিয়ে তাকে যদি ঘরে বন্দি করে রাখে, তাতে তো সমস্যা বাড়বেই। আর উনি হয় তো ভেবেছিলেন মালয়ালাম সংস্কার মেনে ওর বিয়ে দেবে এবং তার উৎসব করবে, তা তো তিন বছরের কুকুরটি বুঝতে পারেনি। তাই তো ও এখনও আশায় আছে। ”