
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 February 2025 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পানাগড়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় (Panagarh Accident Case) তরুণীর (Sutandra Chatterjee) মৃত্যু নিয়ে কিছু কুৎসা রটছে। এটি কোনও ইভটিজিং-এর ঘটনা নয়, রেষারেষির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালো পুলিশ। ঘটনার আসল কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় তরুণী সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ির চালক আগে সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, তাঁদের গাড়ি ধাওয়া করে কয়েকজন মদ্যপ যুবক। শুধু ধাওয়া করা নয়, 'ম্যাডাম'কে লক্ষ্য করে লাগাতার নোংরা অঙ্গভঙ্গি, কটূক্তি করা তো বটেই, দু'-দুবার গাড়িতে ধাক্কাও মারে তারা। মদ্যপ যুবকদের হাত থেকে বাঁচতে গাড়ি অন্য রাস্তায় নিয়ে যান তিনি। সেই সময়েই গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। সুতন্দ্রার অন্য সহকর্মীরাও একই অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ কার্যত ঠিক উল্টো দাবি করল।
আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী বলেছেন, মৃত তরুণীর গাড়ির সঙ্গে অন্য গাড়ির রেষারেষি হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই এই ঘটনা। তবে কটূক্তি করা বা ইউটিজিং-এর কোনও অভিযোগ তাঁদের কাছে নেই। মৃতার সহকর্মীদের বয়ানের ভিত্তিতেই মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্পষ্ট দাবি, কটূক্তির কোনও অভিযোগ নেই। এই নিয়ে সমাজমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে ভুল খবর, বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি গাড়ির মধ্যে ক্রেটা গাড়ি আগে ছিল। তরুণীর গাড়ি পিছনে। ওঁরা জাতীয় সড়ক দিয়ে যেতে পারত। সরু গলিতে ঢোকার মুখে দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এও বলেছে, অভিযোগকারীরা ইভটিজিংয়ের অভিযোগ করেননি। গাড়িতে যারা ছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে দুর্ঘটনার এলাকার রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা সুতন্দ্রাকে ধাওয়া করেছিল, তাদের আদৌ সে চিনত কিনা, তারা সুতন্দ্রাকে চিনত কিনা, সব বিষয়ে জানতে মরিয়া পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন, কোনও অপরাধ করে না থাকলে অভিযুক্ত যুবকরা পালানো কেন। পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ভয়ে পেয়ে পালিয়ে যেতে পারে তারা।
চন্দননগরের নাড়ুয়া রায়পাড়ায় থাকতেন সুতন্দ্রা। ৯ মাস আগে তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মা-ঠাকুমার সঙ্গে থাকতেন তিনি। এই ঘটনার খবর পেয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তাঁরা।
সংবাদমাধ্যমে সুতন্দ্রার মা জানিয়েছেন, মেয়ে তাঁর একমাত্র ভরসা ছিল। স্বামীকে হারানোর পর সুতন্দ্রাই ছিল তাঁর কাছে সব। আজ সেই মেয়েও তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় জীবনটা শূন্য হয়ে গেল তাঁর। মেয়েকে তো আর ফেরত পাবেন না, তাই ওই মত্ত যুবকদের কঠোরতম শাস্তি চাইছেন তিনি।