
শেষ আপডেট: 4 March 2019 11:06
রবিবার নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে ১,৪০০ প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ান ধর্নায় বসেন। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে বৃষ্টি থেকে বাঁচার ছাতা৷ কিন্তু প্রত্যেকের গলায় একই প্রতিবাদের সুর। তাঁদের অভিযোগ, "সরকার কেবল সেনাবাহিনীকে নানা ভাবে তোল্লাই দিয়ে এসেছে৷ অথচ বারবার আমাদেরই বেঘোরে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়৷ তা সে সুকমাই হোক আর পুলওয়ামা, মরতে হবে সেই সেনাকেই৷"
তাঁরা জানান, সেনা চিরকালই ভিআইপি পরিষেবা পেয়ে এসেছে এই দেশে। তাদের রেশন আলাদা, তাদের বেতন আলাদা, অবসরের পর পেনশনের স্কেলও আলাদা৷
অথচ বাস্তবে ঘটে আরও অনেক কিছুই। সোহনলাল নামের এক আধাসেনার প্রশ্ন, "আমরা গত ১৫ বছরে পেনশন পাইনি৷ তার বেলা? কেউ দেখার নেই আমাদের৷ আমরা কিন্তু এর জবাব দেব মোদী সরকারকে। বুঝিয়ে দেব, আধা-সেনাকে অবহেলা করার ফল কী হতে পারে।" পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরের বাসিন্দা সোহনলাল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রাক্তন জওয়ান। তিনি সিআরপিএফ থেকে অবসর নিয়েছেন ২০০৯ সালে৷ গুরুদাসপুর থেকে দিল্লি এসেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হতে৷ বারবার আশ্বাস মিললেও সরকার তাঁদের পাওনাগণ্ডা না মেটানোয় ক্ষুব্ধ তিনি এবং তাঁর সহ-সেনারা।
এই আধাসেনাদের প্রায় সকলেরই মূল অভিযোগ, অর্থনৈতিক বৈষম্যের৷ তাঁদের দাবি, সেনাবাহিনীর জন্য এক পদ এক পেনশন শুরু হলেও বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন আধা-সেনারা৷ যে হারে সেনাবাহিনীতে বেতন বৃদ্ধি হয়েছে, সেই তুলনায় আধা-সেনার বেতন মোটেই বাড়েনি। বাড়েনি পেনশনও।
এর পাশাপাশি রয়েছে সেনা-আধা-সেনার চিরকালীন অসামঞ্জস্যের অভিযোগ। এই দ্বিচারিতার জন্যেও সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলছেন প্রাক্তন আধা-সেনারা৷
কনফেডারেশন অফ এক্স প্যারামিলিটারি ফোর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-মহাসচিব রণবীর সিংয়ের অভিযোগ, শুধু প্রতিশ্রুতিতে পেট ভরে না৷ তাঁর দাবি, আধা-সেনারা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পান না৷ কঠিন পরিস্থিতিতে মোতায়েন আধা-সেনার জন্য থাকে না কোনও বিশেষ ভাতাও৷
তাঁর কথায়, "আধা-সেনাদের সঙ্গে সীমান্তে শুধু দিওয়ালি আর হোলি পালন করলেই হয় না। তাঁদের সমস্যাও বুঝতে হয়৷ মনে রাখতে হয়, পরিবারের সঙ্গে উৎসব পালন করাটাও তাঁদের অধিকার।"