সোমবার রাতে তিনি ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই সেই ইনক্রিমেন্টাল প্রেসার দেওয়ার কৌশল নিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা। তাঁদের এখন সাফ কথা, ইস্তফা নয়, গ্রেফতারি চাই ক্রীড়ামন্ত্রীর।

শুভেন্দু অধিকারী ও অরূপ বিশ্বাস
শেষ আপডেট: 16 December 2025 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিতে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে, তা হল—ইনক্রিমেন্টাল প্রেসার। ক্রমবর্ধমান চাপের নীতি। একটু জমি পেলেই আরেকটি এগোতে চায় যে কোনও রাজনৈতিক দল। যুবভারতী স্টেডিয়ামে (Yuba Bharati Stadium) মেসির ইভেন্টে বিশৃঙ্খলার ঘটনার পর থেকেই বিরোধীদের সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas Resigns)। সোমবার রাতে তিনি ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই সেই ইনক্রিমেন্টাল প্রেসার দেওয়ার কৌশল নিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা (SUvendu Adhikari)। তাঁদের এখন সাফ কথা, ইস্তফা নয়, গ্রেফতারি চাই ক্রীড়ামন্ত্রীর।
কোনওরকম চাপের মুখে পড়ে দলের নেতা বা মন্ত্রীদের ইস্তফা দিতে বলা যেমন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের অভিধানে নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বরাবর পাল্টা চাপের কৌশলেই হাঁটেন। সেদিক থেকে অরূপ ইস্তফা দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করায় শুভেন্দুরা অনেকটাই বিষ্মিত। কারণ, আলোচনায় শুভেন্দুও দলের মধ্যে বলাবলি করেছিলেন, অরূপকে হয়তো এর পরেও সরানো হবে না। কিন্তু শুভেন্দুরা এখন মনে করছেন, সমালোচনার তীব্রতা বুঝেই সরকার এই পদক্ষেপ করল। তাই তাঁরা আরও চাপ বাড়াতে নেমে পড়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে শুভেন্দু বলেন, যুবভারতীতে শনিবার মানুষের যে ভোগান্তি হয়েছে তার মাশুল দিতে হবে। শুধু ইস্তফায় কাজ হবে না। মেসির কলকাতার ইভেন্ট যেভাবে পণ্ড হয়েছে, তাতে অনেক কিছু ক্ষতি হয়ে গেছে। দর্শকদের মানসিক ট্রমা হয়েছে, অরাজক ঘটনায় ছোট ছেলেমেয়েরা ভয় পেয়েছে, এতদিনের স্বপ্ন, সাধারণ মানুষের এতগুলো টাকা নষ্ট হয়েছে, সেই সঙ্গে বাংলার মুখ পুড়িয়েছে অপদার্থরা। এর জন্য দায় নিশ্চিত করে গ্রেফতার করতে হবে।
শনিবার যুবভারতীতে লিওনেল মেসিকে ঢোকার মুহূর্ত থেকেই তাঁকে ঘিরে ছিলেন কর্তা-মন্ত্রীরা। মোটা টাকায় টিকিট কেটে গিয়েও প্রিয় তারকাকে দেখতে না পাওয়া দর্শকদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে মাঠে। বোতল ছোড়া হয়। গ্যালারির চেয়ার ভেঙে মাঠে ফেলা হয়। ফেন্সিংয়ের গেট ভেঙে শয়ে শয়ে দর্শক ঢুকে পড়েন মাঠে। সব মিলিয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সাজানো যুবভারতী স্টেডিয়াম।
ঘটনার পর পরই সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ক্ষমা চেয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৎক্ষণাৎ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়কে মাথায় রেখে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গড়ে দেন।
তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, এই তদন্ত কমিটি বিশৃঙ্খলার (Yuba Bharati) ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং বিধাননগরের কমিশনার মুকেশ কুমারকে শোকজ করেছে। আর তার পরপরই অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফার ইচ্ছে প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন সুজিত বসুকেও গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই-ই নয়, স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় পুলিশ যাঁদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করেছে, তাঁদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া এবং টিকিটের সমস্ত টাকা ফেরতের কথাও বলেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত তদন্ত কমিটিকেও ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ওই কমিটিতে এমন আমলারা রয়েছেন, যাঁরা নিজেরাই এই ঘটনার তদন্তের আওতায় পড়তে পারেন, এমনকী মুখ্যসচিবও। ফলে এই তদন্তের উদ্দেশ্য গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া বলেই তাঁর মত।