দ্য ওয়াল ব্যুরো: লন্ডন থেকে আসা এক বাঙালি তরুণের শরীরে গতকাল নভেল করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। কলকাতায় এই প্রথম কারও শরীরে এই সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার নবান্নে এক অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, এটা কলকাতার প্রথম কেস বলা ভুল। যে সব সংবাদমাধ্যম এটা লিখেছে তারা ঠিক লেখেনি। ওই তরুণের শরীরে লন্ডনেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল। সে সেই সংক্রমণ নিয়ে কলকাতায় এসেছে।
কোভিড-১৯ আক্রান্ত ওই তরুণ বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর বাবা, মা, গাড়ির চালিক সহ পরিবারের আরও ৬ জনকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে তাঁদের লালারস পরীক্ষার জন্য নাইসেডে পাঠানো হয়েছে।
নাম না করে এই এদিন ওই তরুণ ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবিবেচক বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, ওই তরুণের শরীরে উপসর্গ থাকলেও কেন বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়েনি। শুধু তা নয়, কেন ওই তরুণ ও তাঁর পরিবার বিষয়টি গোড়ায় গোপন করে গিয়েছিলেন তা নিয়েও তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, ওই তরুণের মা রাজ্য সরকারের পদস্থ আমলা। গত সোমবার ওই তরুণ এমআর বাঙুর হাসপাতালে চেক আপের জন্য গিয়েছিলেন। তখনই তাঁকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তা না করেও তিনি কেন এখানে সেখানে শপিং মলে ঘুরে বেড়ালেন সেই প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রশ্নও উঠেছে ওই তরুণের মা এক পদস্থ আমলা হয়েও কীভাবে সব কিছু গোপন করে গেলেন। এবং নবান্নে গিয়ে সহকর্মী ও শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে রোজকারের মতো দেখা সাক্ষাৎ মিটিং করলেন। এতে যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে সে কথা কেন একবারও তিনি ভাবলেন না।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, এখানে কোনও ভিভিআইপি-এলআইপি নেই। আমার জন্য নিয়ম আপনার জন্যও তাই নিয়ম। বিদেশ থেকে কেউ এলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। বিদেশে যাঁরা পড়তে গিয়েছেন তাঁদের এখন ছুটি শুরু হয়েছে। তাঁরা দেশে ফিরছেন, ভাল কথা। কিন্তু যাঁরা বিদেশ থেকে আসছেন, তাঁর যেন পনেরো-সাতাশ দিন নিজেদের আইসোলেশনে রাখেন। এ ব্যাপারে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অবিবেচকের মতো কাজ করলে চলবে না।