দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছিলই। তাতে আরও গতি বাড়িয়ে দিয়েছে ভিন রাজ্য থাকা শ্রমিকদের ঘরে ফেরার ঘটনা। তাঁদের মধ্যে থেকে অনেকেরই নমুনা পরীক্ষার পর পজিটিভ বেরোচ্ছে। সেই চাপ সামলাতে কোভিড চিকিৎসার জন্য আরও হাসপাতাল বাড়ানোর পথে হাঁটতে চলেছে নবান্ন।
রাজ্য সরকারের শীর্ষ সূত্রে খবর, কমবেশি আরও ১৫টি হাসপাতালকে কোভিড চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করা হবে। এখন রাজ্যে কোভিড হাসপাতালের সংখ্যা ৬৯টি। তা বেড়ে হতে পারে ৮৪টি। কোন জেলায় কোন হাসপাতালকে কোভিড চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হবে সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিকর্তারা পর্যালোচনা করছেন বলে সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন হাসপাতালের কথা ঘোষণা করতে পারে রাজ্য সরকার।
রাজ্যে এখন যে ৬৯টি হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসা হচ্ছে, সেখানে মোট বেডের সংখ্যা আট হাজার ৭৮৫টি। এর মধ্যে আইসিইউ বেড ৯২০টি এবং ভেন্টিলেটর সাপোর্ট রয়েছে ৩৯২টি বেডে। সরকারের অনেকের মতে, যে হারে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে থেকে সংক্রমিত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা দেখেই আগাম ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
সোমবার বিকেলের বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭৭২। তবে এই মুহূর্তে কোভিড সক্রিয় রয়েছে তিন হাজার ১৪১ জনের শরীরে। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত যা বেডের ব্যবস্থা রয়েছে তার অর্ধেকের বেশি খালি পড়ে আছে। ফলে অনেকেরই প্রশ্ন, তাহলে কি সরকার আশঙ্কা করছে সেই সংখ্যা ছাপিয়ে যেতে পারে? নবান্নের এক আমলার কথায়, খারাপ পরিস্থিতির কথা চিন্তা করেই ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। সরকার সেটাই করছে।
১০ জুন পর্যন্ত ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের নিয়ে বাংলায় ২৩৫টি ট্রেনের আসার কথা। সোমবার পর্যন্ত রাজ্যে ১৫০টি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন পৌঁছে গিয়েছে। তা ছাড়াও বাসে, গাড়িতে, পায়ে হেঁটে হাজার হাজার শ্রমিক রাজ্যে ফিরেছেন। নবান্নের হিসাব, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ফিরেছেন প্রায় পাঁচ লক্ষ শ্রমিক।
পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে থেকে যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তা গত কয়েকদিন ধরেই বোঝা যাচ্ছে। বিশেষত উত্তরবঙ্গ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে সরকারের। কোচবিহার, দুই দিনাজপুর, মালদহের মতো জেলায় সংক্রামিতের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। ট্রেনের পাশাপাশি বিমানেও অনেকে আসছেন। কলকাতার পাশাপশি বিমান ওঠানামা করছে বাগডোগরা থেকেও।
ইতিমধ্যেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সংক্রমণের শীর্ষে থাকা পাঁচটা রাজ্য-- মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ এবং দিল্লি থেকে যাঁরা আসবেন তাঁদের সরকারি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। বাকিরা থাকবেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, এত লক্ষ লক্ষ মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার মতো পরিকাঠামো সরকারের নেই। তাঁর কথায়, "আমাদের কেন কেন্দ্রকে বললেও পারবে না!" তবে আক্রান্ত বাড়লে হাসপাতালের ব্যবস্থা যাতে থাকে তার পদক্ষেপ এখন থেকেই শুরু করে দিল রাজ্য।