
শেষ আপডেট: 27 April 2023 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: স্কুলের দুটো কলই খারাপ। পানীয় জলের অভাবে (Drinking Water) বন্ধ করে দেওয়া হল স্কুলে মিডডে মিলের (Midday Meal) রান্না। এই ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে কাটোয়ায় (Katwa School)।
কাটোয়া ১ ব্লকের অন্তর্গত বিকিহাট অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে জলের সমস্যা। বিদ্যালয়ের দুটি পানীয় জলের কল রয়েছে। গত ছ’মাস আগে একটি কল খারাপ হয়ে যায়। অন্যটিও দেড় মাস আগে অকেজো হয়ে পড়ে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি। ফলে বাধ্য হয়েই অভিভাবকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই স্কুল কর্তৃপক্ষ মিড ডে মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
স্কুলের মিডডে মিলের রাঁধুনি খুকুরানি কর জানান, বহুদিন ধরে স্কুলের পানীয় জলের কল খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। হেডস্যার সেগুলি সারানোর জন্য বহুবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। এতদিন আশেপাশের বাড়ি থেকে রান্নার জন্য জল আনা হচ্ছিল। কিন্তু এখন আর দূর থেকে জল আনা সম্ভব নয়। অগত্যা মিড ডে মিলের রান্নাই বন্ধ করতে হল।
খুকুরানি জানান, মিডডে মিলের রান্নাই শুধু নয়, ওই কলের জলই বাচ্চারা খেত। এই গরমে দুটি কল অকেজো থাকায় স্কুলে পানীয় জলের অভাব রয়েছে। বাড়ি থেকে নিয়ে আসা জল শেষ হয়ে গেলে বাচ্চাদের আর জল খাওয়ার উপায় নেই। এমন পরিস্থিতি জেনেও প্রশাসনের কোনও হেলদেল নেই।
প্রতিমা মণ্ডল, রাখি রায়দের ছেলে-মেয়েরা এই স্কুলে পড়াশোনা করে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে জলের অভাব রয়েছে। প্রশাসন বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখুক।
এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশ সাহা বলেন, ‘কল সারানোর জন্য বহুবার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সুরাহা না পেয়েই মিডডে মিল বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হল। তবে মানবিকতার খাতিরে মিডডে মিলের খরচ থেকে পড়ুয়াদের ডিম, কলা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কল সারানো না হওয়া পর্যন্ত মিডডে মিলের রান্না বন্ধ থাকবে।‘
যদিও কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক আসিফ ইকবাল জানান, স্কুলের মিডডে মিল এইভাবে বন্ধ করা যায় না। তিনি আরও জানান প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল স্থানীয় স্কুল ইন্সপেক্টরকে জানিয়ে সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করা। স্কুলের এই সমস্যা সম্পর্কে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।