দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: রাজপরিবারের রীতিনীতি মেনে কোচবিহারে পালিত হল মদনমোহনদেবের উল্টো রথযাত্রা । করোনার জন্যে অবশ্য উৎসবের প্রাঙ্গনে ব্রাত্য থাকলেন কোচবিহারের মানুষ।
রীতি অনুযায়ী সাতদিন মাসির বাড়ি বলে পরিচিত গুঞ্জবাড়ির ডাঙ্গরাই মন্দিরে থাকার পর মঙ্গলবার ফিরে এলেন কোচবিহারের মদনমোহন বাড়িতে। ফিরে এলেন কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর মদনমোহন। করোনা আবহে রথযাত্রা হয়নি এবার। চিরাচরিত প্রথার পরিবর্তন করা হয়েছে। রথের বদলে এবার মদনমোহন রথের আদলে তৈরি গাড়িতে করে গিয়েছিলেন মাসির বাড়ি।
মদনমোহন ঠাকুর ফিরে আসার পর রীতি মেনে মদনমোহনমন্দিরে মদনমোহন ঠাকুরের পুজো করেন কোচবিহারের দেবত্ব ট্রাস্ট বোর্ডের সভাপতি তথা কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাদিয়ান। জেলাশাসক জানান, রীতি অনুসারে রাজপরিবারের ঐতিহ্য মেনে মদনমোহন ঠাকুরের উল্টো রথযাত্রায় অংশ নিতে পেরে তিনি খুশি |
মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের রাজত্বকালে ১৮৯১ সাল থেকে চলে আসছে এই রথযাত্রা। আগে রাজা স্বয়ং দড়ি ধরে রথযাত্রার সূচনা করতেন। এখন তা করেন কোনও রাজপ্রতিনিধি। গত মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় সেই রথযাত্রার সূচনা হয়। সূচনা করেন রাজপ্রতিনিধি অমূল্যকুমার দুয়ারবকশী। এবার রথের রশি অবশ্য পুরোপুরি প্রতীকী। তিনি রশিতে টান দেওয়ার পরে মোটরচালিত রথ যায় দু’ কিলোমিটার দূরে মাসির বাড়ি ডাঙ্গরাই মন্দিরে। এই মন্দিরও প্রতিষ্ঠা হয় ১৮২১ সালে।
প্রতি বছর ডাঙ্গরাই মন্দির ঘিরে সাত দিন ধরে চলে রথের মেলা। এবার তা হয়নি করোনা মহামারীর জন্য। ডাঙ্গরাই মন্দিরটিও কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড পরিচালিত। পদাধিকারবলে এই ট্রাস্টের প্রধান হলেন কোচবিহারের জেলাশাসক।
রথ এক দিনের উৎসব হলেও তার প্রস্তুতি অনেক দিনের। জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমায় ১০৮ কলসের জলে স্নান করানো হয় মদনমোহনদেবকে। রথযাত্রার আগের রাতে সন্ধ্যারতির পরে হয় অধিবাস। রথের দিন সকালে স্নান পর্বের পরে মদনমোহন ঠাকুর বাড়ির কাঠামিয়া মন্দিরে বিশেষ পুজো হয়। এখানে রাজপুরোহিতের পাশাপাশি পুজো করেন জেলাশাসকও। বিশেষ পুজোর পরে পাঁচ রকম ভাজা ও পরমান্ন সমেত ভোগ দেওয়া হয়। বিকেলে রথ টানা হয়।
এবার করোনা পরিস্থিতিতে রথযাত্রার উন্মাদনা উপভোগ করতে পারলেন না কোচবিহারের মানুষ। শুধু নিয়ম মেনে হল আরাধনা।