দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় ভাঙল রাস্তা। জলের তোড়ে তলিয়ে গেল সেতু। ফলে বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পূর্ত দফতরের তৈরি অস্থায়ী রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় একপ্রকার যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার-কামারপাড়া রোড। বুধবার দুপুর থেকে এই রাস্তায় বন্ধ হয়ে গেছে ভারী যানবাহন চলাচল।তবে ছোট যানবাহন চলাচল করছে ধীরে ধীরে। পুলিশের নজরদারির মধ্যে ছোট গাড়ি পারাপার করছে।
সোমবার দুপুর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বর্ধমানে ভাতার-কামারপাড়া রোডের নারায়ণপুর গ্রামের কাছে কাঁদরের ওপর বহুকালের পুরানো সেতু ছিল। সেতুটি ছিল খুবই অপরিসর ও ভগ্নপ্রায়। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজের পর ওই সেতুটি ভেঙে নতুন করে চওড়া সেতু তৈরির কাজ সবে শুরু করেছে পূর্ত দফতর। এই সেতুর কাজের জন্য পাশে একটি অস্থায়ী কজওয়ে তৈরি করা হয়। টানা বৃষ্টিতে ওই কজওয়ে প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। রাস্তাতে নেমেছে ধস।
রাতভর বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন গন্ধেশ্বরী নদীর সতীঘাট সংলগ্ন পুরসভার তৈরি অস্থায়ী সেতুটিও। চরম সমস্যায় নদীর ওপারের বিকনা, পুরন্দরপুর, মানকানালী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অসংখ্য মানুষ। মাত্র ক'মিনিটের রাস্তা, অথচ এখন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বাঁকুড়া শহরে আসতে হচ্ছে।
২০১৮ সালে বন্যার তোড়ে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন গন্ধেশ্বরী নদীর সতীঘাটের ফুট ব্রিজটি ভেঙে যায়। পরে পূর্ত দফতরের তরফে প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করে ওই জায়গায় নতুন সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই কাজ শেষ না হওয়ায় পুরসভার তরফে ফি বছর ওই জায়গায় অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়। তবে প্রতি বর্ষাতেই জলের তোড়ে তা ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায় বলে এলাকার মানুষের অভিযোগ। এবারও বর্ষার শুরুতেই একই ঘটনা ঘটল।
বৃষ্টির জলে ভাসল হুগলির কেওটার মিলিটারি কলোনি। চুঁচুড়া পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের মিলিটারি কলোনিতে প্রায় তিন হাজারের বেশি মানুষের বাস। এই অঞ্চলের নিকাশি ব্যবস্থা খারাপ থাকায় একটু বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। করোনা মহামারীতে এমনিতেই মানুষ ভীত, তার উপর রাতভর বৃষ্টিতে জমা জলে দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। জল নিকাশির দাবিতে জি টি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষজন। ঘটনাস্থলে যায় চুঁচুড়া থানার পুলিশ।
কখনও ভারী কখনও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে হুগলি জেলা জুড়ে। সকাল থেকেও চলতে থাকে বৃষ্টি। আর এই বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার বিভিন্ন এলাকা। অল্প বৃষ্টিতে যে সব জায়গায় জল জমে সেখানকার বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েন। কেওটা মিলিটারি কলোনিতে রাস্তা উপচে জল ঢুকেছে বাড়িতে। নিকাশি বেহাল থাকায় জল বেরোতে দেরি হচ্ছে। তার উপর বৃষ্টির বিরাম নেই। তাই এখনই দুর্ভোগ কমার কোনও লক্ষণ দেখছেন না বাসিন্দারা।